কলকাতা: ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মঞ্চে প্রশংসা পেলেও বহু শর্ট ফিল্মই (Short Film) পরে আর দর্শকের সামনে পৌঁছনোর সুযোগ পায় না। তবে এবার থেকে এই সমস্যার সমাধান করতে চলেছে ‘শর্টফ্লিক্স, স্ক্রিন অ্যান্ড স্পিক’-এর প্রথম এডিশন (ShortFlicks–Screen & Speak, Edition I)। শর্ট ফিল্ম থেকে মিউজিক ভিডিও – সবই এবার বড় পর্দায় দেখানোর সুযোগ করে দিতে কলকাতায় এই মহা আয়োজন শুরু করছে ‘শর্টফ্লিক্স এন্টেরটেইনমেন্ট’-এর (ShortFlicks Entertainment)।

যদিও এই প্রথম নয়, এর আগে শর্টফ্লিক্স এন্টেরটেইনমেন্ট স্বাধীন ছবি নির্মাতাদের জন্য এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে। আইকেএসএফএফ-শর্টফ্লিক্স (IKSFF-ShortFlicks) নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করেছে এই সংস্থা। ইতিমধ্যেই এই চ্যানেলের মাধ্যমে বহু ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকারের কাজ পৌঁছে যাচ্ছে লাখ লাখ দর্শকের কাছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে নির্মাতারাও রোজগারের সুযোগ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: কোন ছবিতে রজনীকান্তের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন শাহরুখ?
এবার শর্টফ্লিক্স এন্টেরটেইনমেন্টের উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের (IKSFF) সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে থাকছে একাধিক পর্ব।

নির্বাচিত শর্ট ফিল্ম ও মিউজিক ভিডিও বড় পর্দায় প্রদর্শনের পাশাপাশি নির্মাতাদের সঙ্গে দর্শকদের সরাসরি মত বিনিময়ের সুযোগও থাকবে এখানে। থাকছে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ সাক্ষাৎকার, যেখানে নির্মাতারা তাঁদের ছবির পিছনের গল্প ও সৃষ্টির অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। থাকবে মিডিয়া মিট ও কভারেজ এবং অংশগ্রহণকারী নির্মাতাদের জন্য পিআর সহায়তা, যাতে তাঁদের কাজ আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছতে পারে।

আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬ এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি কোনও প্রতিযোগিতা নয়। এখানে ট্রফি বা পুরস্কারের লড়াই নেই। বরং এটি এমন একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নির্মাতারা তাঁদের কাজ দর্শকের সামনে তুলে ধরতে পারবেন এবং ছবির পিছনের গল্প ভাগ করে নিতে পারবেন।

প্রতিটি এডিশনে সীমিত সংখ্যক ১০–১২টি ছবি বড় পর্দায় প্রদর্শিত হবে। ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগে দেবলীনা দত্ত ও বিশ্বনাথ অভিনীত ‘ইতি – দ্য বিগিনিং’, ফাল্গুনী চ্যাটার্জি ও মানসী সিনহা অভিনীত ‘শুধু মনে রেখো’, দেবশঙ্কর হালদার ও লাবণী সরকার অভিনীত ‘ভালো আছি’, এবং চন্দন সেন অভিনীত ‘সাহারা’–সহ একাধিক উল্লেখযোগ্য শর্ট ফিল্ম জমা পড়েছে। দর্শকদের জন্য এইসব ছবির স্ক্রিনিং সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’ রাখা হয়েছে।

আয়োজকদের অন্যতম সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “শর্ট ফিল্মের পিছনে অনেক পরিশ্রম ও স্বপ্ন থাকে। সেই ছবিগুলো যেন হারিয়ে না যায়, বরং মানুষের সামনে পৌঁছয়— সেটাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।”
দেখুন আরও খবর:
