কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে ফের আক্রমণ শানালেন বিজেপি (BJP) নেতা তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সোমবার সকালেই খড়গপুরে (Kharagpur) ভোট প্রচারে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তাঁর সরকারকে তীব্রভাবে নিশানা করেন তিনি।
ভবানীপুর উপনির্বাচন প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, আগে পুলিশ ও ভুয়ো ভোটার দিয়ে যে ‘দাদাগিরি’ চলত, এবার তার সুযোগ নেই। মুখ্যমন্ত্রীর ‘গণনা কেন্দ্রে সতর্ক থাকার’ মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যারা লুঠ করে জেতে, তারা এখন ভয় পাচ্ছে কেন?” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বুঝে গিয়েছেন এবার জেতা কঠিন, তাই তিনি “কাদায় আটকে গেছেন”। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৬০ হাজার ভোটের লিডের দাবিকেও খারিজ করে দিয়ে দিলীপবাবু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “আগে ৬০ হাজার ভোট পেয়ে দেখাক।”
আরও পড়ুন: বসন্তে শীতের আমেজ! বৃষ্টিভেজা কলকাতার তাপমাত্রা নামল ২০-র নীচে
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়েও সরব হন তিনি। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং আরজি করের মতো হাসপাতাল সাধারণ মানুষের কাছে ‘মৃত্যুফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংখ্যালঘু রাজনীতি নিয়েও তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে। বগটুই কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেখানে মুসলিম মা ও শিশুদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, আর তার নেপথ্যে ছিল তৃণমূল নেতারা।” পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেই সংখ্যালঘুরা বেশি নিরাপদ।
নিজের কেন্দ্র খড়গপুরের দূষণ সমস্যা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। পুরসভার ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিধায়ক থাকাকালীন তিনি এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে দূষণকারী সংস্থার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বাইরে প্রতিবাদ করার প্রবণতাকেও কটাক্ষ করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকিট না পেলে সাময়িক ক্ষোভ থাকতেই পারে, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই দলীয় স্বার্থে একজোট হয়েই লড়বে। সকালের এই তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ যে নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়াল, তা বলাই বাহুল্য।

