কলকাতা: এবার ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) আগে SIR ইস্যুতেই শুক্রবার থেকে ধরনায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মেট্রো চ্যানেলের সামনে চলছে অবস্থান।মমতার মঞ্চে প্রথম বক্তব্য রাখলেন প্রতীক উর রহমান (Pratikur Rahman)। প্রথম বক্তব্যেই সুপ্রিমোর প্রশংসা, গলায় ‘জয়-বাংলা’ স্লোগান। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দিদি হচ্ছে একটা ব্র্যান্ড। বাংলার মানুষ চোখ বন্ধ করে ভরসা করে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রতীক উর রহমান। প্রতীক-উর মনে করালেন ভারতের বৈচিত্রের কথা, বললেন, ‘কাগজ দেখাব না’! দেশের বিভিন্নপ্রান্তে বিভিন্ন ভাষাভাষির মানুষের বাসের কথা মনে করিয়ে দেন সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা প্রতীক-উর।
এদিন ধর্নার দ্বিতীয় দিনে প্রতীক উপরের কণ্ঠেও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কটাক্ষের সুর। মমতা ব্যানার্জির সামনেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন তিনি। প্রতীক উর বলেন, ‘প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাদের নেত্রী, বাংলার জননেত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। তাঁর প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব, যাঁর হাত ধরে আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছি, অভিষেক ব্যানার্জিকে। আমি অভিভূত, আমি আনন্দিত, এই এত বড় মঞ্চে আমাকে বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’ এরপরই বিজেপি ও কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে প্রতীক উর বলেন, সংবিধানের যখন প্রথম পাতা খুলে আমরা দেখি, তখন বড় বড় করে স্পষ্ট করে লেখা থাকে, ‘উই দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া’। এখন দুর্ভাগ্যের হলেও সত্য, এই বিজেপি আসার পরে আর এই ভ্যানিশ কুমার ন জ্ঞানেশ কুমার আসার পরেই জিজ্ঞেস করেন, ‘হু দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া’। নির্বাচনের আগে ‘উই দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া’, নির্বাচনের পর ‘হু দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া’।’এরপর দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যেদিন ভারত ভাগ হয়েছিল, তখন ভারতীয় মুসলমানরা জিন্নার চোখে চোখ রেখে বলেছিল, লাথি মারি তোর পাকিস্তানকে, এই দেশ আমার।’ সেই ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মুসলিমরা আজও এই দেশকেই নিজের দেশ বলে মনে করে।
আরও পড়ুন: বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেব, ধরনা মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি মমতার
এদিন প্রতীক উর বলেন, ‘‘এটাই আমাদের ভারতবর্ষ। এই ভারতের ঐতিহ্যকে বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন ভাঙতে চাইছে।’’ তাঁর হুঙ্কার, ‘‘আমরা কাগজ দেখাব না।’’জ্ঞানেশ কুমারের প্রচুর জ্ঞান। শুধু কাণ্ডজ্ঞানটুকু নেই। মানুষের জন্য কাজ করার জন্য যে নির্বাচন কমিশন, মানুষের প্রতি যে দায়বদ্ধতা, সেটুকু কাজ তিনি করেন না। বিজেপির দালালি করতে হবে, মানুষের হয়রানি করতে হবে, বিজেপির স্লোগানকে বাংলার মাটিতে বাস্তবায়িত করতে হবে। তার জন্য যত নাম আছে, সব কেটে বাদ দাও। প্রতীক উরের আরও দাবি, ‘বিজেপির নেতারা দিল্লিতে গিয়ে হন্যে হয়ে পড়ে আছেন। পশ্চিমবঙ্গে জিততে পারছে না। টাকা দিয়েছে, গাড়ি দিয়েছে, বডি গার্ড দিয়েছে। তারপরেও কেন তোমরা জিততে পারছো না। বাংলাদেশ থেকে প্রচুর রোহিঙ্গা এসেছে, তাই আমরা জিততে পারছি না। সেই জন্য নির্বাচন কমিশনকে বাংলায় পাঠানো হল। যাঁরা তৃণমূলকে সমর্থন করেন, তাঁরা হলেন আদিবাসী, এসসি, এসটি হতে পারেন, তাঁরা মুসলমান হতে পারেন, তাঁদের নাম রাতারাতি কেটে বাদ দাও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই এদিন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলে তোপ দাগেন প্রতীক উর। বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বারবার করে বলছেন ভ্যানিস কুমার। যতই চেষ্টা করুন ভ্যানিশ কুমার তৃণমূলকে ভ্যানিশ করতে পারবে না। কিন্তু ছাব্বিশের পরে, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলে যাচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এই বাংলার মানুষ পদ্মফুলকে ভ্যানিশ করবে।
