ওয়েবডেস্ক- বড়সড় বিপাকে টলিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী (Tollywood actress Mimi Chakraborty) । সম্প্রতি বনগাঁয় (Bangaon) অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলার জন্য মিমি অভিযোগ তোলেন তনয় শাস্ত্রীর উপরে। এর জন গ্রেফতারও হতে হয়েছিল তনয় শাস্ত্রীকে (Tanoy Shastri) । জামিনে জেলমুক্তি হয়েছে তাঁর। আর চুপ করে বসে থাকলেন না তিনি। এবার মিমি চক্রবর্তীকে আইনি নোটিস পাঠালেন তনয় শাস্ত্রী। আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মাধ্যমে এই আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিনেত্রীকে মিমিকে। ফলে আইনি জটে ফাঁসলেন অভিনেত্রী। এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মিমি। তবে ঘটনায় নয়া চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
নোটিসে মূলত তিনটি কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, এই অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক হিসেবে মিমিকে ২ লক্ষ ৬৫ হাযার টাকা দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে মিমি’র আসার কথা ছিল রাত সাড়ে ৯ টায়। সেই সময়ের ঘণ্টা দুয়েক পর সাড়ে ১১ টায় সেখানে আসেন মিমি। সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে উঠতেও পারেননি। তাই ওই পারিশ্রমিক ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তনয় শাস্ত্রী। দ্বিতীয়ত, মিমি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায় জেলযাত্রা পর্যন্ত হয়েছে। তার ফলে এর জন্য মানহানি হয়েছে তনয় শাস্ত্রীর। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে। তৃতীয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিমি চক্রবর্তীকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মূলত মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- ভোটের মুখে ৬৮ লক্ষ টাকার ঋণ বিতর্কে সোহম!
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৫ জানুয়ারি। বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের পরিচালনায় বাৎসরিক অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মিমির অনুষ্ঠানের সময় ছিল। ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ, মিমি একঘণ্টা দেরিতে সেখানে পৌঁছন। মঞ্চে উঠতে উঠতে তাঁর পৌনে ১২টা বেজে যায়। অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল রাত ১২ টা পর্যন্ত। সেই কারণে তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্থা করা হয়েছে।
এই মর্মে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়।এই ঘটনায় তনয় শাস্ত্রীকে ধরার জন্য যায় বনগাঁ পুলিশ। সেই সময় বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে প্রথমে বেগ পেতে হয়েছিল। পুলিশকে ‘হেনস্তা’ ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেও মামলা হয় তনয় শাস্ত্রী ও ধৃত দু’জনের বিরুদ্ধে। আদালতের তোলা হলে বিচারক তনয় শাস্ত্রীকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। শনিবার সেই মেয়াদ শেষে ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। অভিনেত্রী মিমির করা মামলায় জামিন পান তনয়। তবে পুলিশকে করা হেনস্তার মামলায় সেদিন জামিন পাননি তনয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামিন পান তনয় শাস্ত্রী। এই কারণে সন্ধ্যার দিকে জেল থেকে ছাড়া পান তিনি।
