ওয়েব ডেস্ক : বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের (Nana Patekar) মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিনেতার মৃত্যুর পর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে গোয়া পুলিশ (Goa Police)। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে শুরু হয়েছে তদন্ত। পরিবারের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করা এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন দিক জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৯৪ নম্বর ধারায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। গোয়ার পানাজি থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে। মৃত্যুর আগে অভিনেতার শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, তাঁকে কখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়—সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আরও খবর : “হিরো হতে গিয়ে অভিনেতাকে হারাস না,” নানার স্মৃতিচারণ করলেন শাহরুখ
তদন্তের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য রেকর্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। হাসপাতালের নথি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রাথমিক ভাবে হৃদ্রোগের বিষয়টি সামনে এলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, অভিনেতার আগে থেকেই হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা ছিল এবং তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতেন বলে জানা গিয়েছিল। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তদন্তের ফল এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হওয়া মানেই মৃত্যুর পিছনে অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে, এমন নয়। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ এই ধরনের মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত চালাতে পারে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। নানা পাটেকরের প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়শৈলী, সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ধরন এবং পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতি তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
এখন গোয়া পুলিশের তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, হাসপাতালের তথ্য এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আপাতত তদন্তের ফলের দিকেই নজর রয়েছে।
