পরে এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হবে, হ্যাঁ, কে প্রথম কাছে এসেছে, কংগ্রেস না তৃণমূল, তা নিয়ে প্রচুর চর্চার মধ্যেও সারবস্তু এটাই যে, দুই দল কাছে আসছে। হ্যাঁ, এমনি এমনিই তো কাছে কেউ আসে না, স্কুটারের পিছনে বসে গান গায় না, তার আগে একটা রসায়ন কাজ করে, রাজনৈতিক দলে আসার মধ্যেও সেই রসায়ন কাজ করে। প্রতীক উর যাচ্ছেন তৃণমূলে, তখন ফেবু সিপিএম-এর এক প্রচার শুরু হল, যারা তোমাকে মেরে আধমরা করে রাস্তায় ফেলে রেখে গিয়েছিল, তাদের হাত কী করে ধরলে কমরেড? যাত্রাপালার মতো আবেগ। যাঁরা বলছেন তাঁদের মাথাতেও নেই এ বাংলার প্রতিটা পাড়া, প্রতিটা মহল্লাতে কংগ্রেসী গুন্ডা বা কংগ্রেসি সরকারের পুলিশের গুলিতে শহীদদের ‘শহীদ বেদি’ এখনও আছে, তার পরেও তারা অনায়াসে সেই সোমেন মিত্রের সঙ্গেও হাত মিলিয়েছে, যাঁকে তারা শিয়ালদহের গুন্ডা বলতেন। কিন্তু ওই যে রসায়ন, টিকে থাকার তাগিদ, সারভাইভাল ইন্সটিংক্ট থেকেই এই বাংলাতে সিপিএম কংগ্রেস হাত ধরেছে লোকসভা বিধানসভা নির্বাচনে। অবশ্য কমরেড মহম্মদ সেলিম দেঁতো হাঁসি হেঁসেই বুঝিয়ে দেবেন ওটা জোট নয়, ওটা হল নির্বাচনী সমঝোতা। সে যাই হোক পাশাপাশি, কাছাকাছি আসার জন্য একটা রসায়ন দরকার, সেই কেমিস্ট্রিই অন্তত জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে দু’দলকে কাছাকাছি এনেছে, রাজনীতি যে এক অসীম সম্ভাবনার শিল্প তা আজ আবার পরিস্কার। অভিষেক বন্দ্যোপধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লিতে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে তাঁরা আছেন। সেটাই বিষয় আজকে, নতুন সমীকরণ, কংগ্রেস–তৃণমূল কংগ্রেস কি আরও কাছাকাছি, আরও পাশাপাশি?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে তাঁরা মানে তৃণমূল দল থাকবেন শুধু নয়, তাঁদের বক্তার তালিকাও নাকি ফাইনাল করা হয়ে গিয়েছে। এটা তো ঘটনা যে, সংসদে এখন তৃণমূল সদস্যরা বলতে উঠলে মিডিয়া থেকে শাসক দলের এক সমীহ তারা আদায় করে নিয়েছে, তার ওপরে এবারে ঝোলাতে মেনকা গুরুস্বামী আছেন। কিন্তু দিল্লিতে সংসদ ভবনে এটাই তো কেবল খবর নয়, এরপরের খবর হল শতাব্দী রায় ওই জ্ঞানেষ কুমারের বিরুদ্ধে, চিফ ইলেকশন কমিশনারের ইমপিচমেন্টের বিষয় নিয়ে ড্রাফট রেডি করে ইন্ডিয়া জোটের সবাইকে দিয়েছেন। আর প্রাথমিক খবর হল, কংগ্রেস সেই ইমপিচমেন্টে অংশ নিতে রাজি হয়েছে। বিরাট ব্যাপার! এমন নয় যে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্পিকারকে সরিয়ে দেওয়া যাবে, সে সংখ্যা বিরোধীদের নেই। কিন্তু একটা বিরোধী জোট যে তৈরি আছে, সেটা মানুষের কাছে তুলে ধরা যাবে, ঠিক সেই রকমই চিফ ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট সংসদে নির্বাচন কমিশনের বহু ধ্যাস্টামোকে তুলে ধরার সুযোগ করে দেবে, আর সেখানেও সমস্ত বিরোধী দল যদি একসঙ্গে থাকে তাহলে সেই ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের ছবিটা মানুষের কাছে যাবে।
আরও পড়ুন: Aajke | রাহুল গান্ধী বললেন, সিপিএম এর সঙ্গে বিজেপির সেটিং আছে
দেশের ৫৫ শতাংশ মানুষ এখনও এনডিএ বিরোধী, এটা তো ঘটনা। কিন্তু এর সঙ্গে আরও দুটো ঘটনা ঘটেছে ওই সংসদেই, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ, প্রথমটা হল বিজু জনতা দল, সম্ভবত তাদের ওই কোট আনকোট ‘বিজেপিকে ঘাঁটাবো না’ তত্ত্বের বাইরে আসছেন, তাদের সঙ্গে কথা শুরু হয়েছে বিরোধী জোটের, কাজেই বিরোধী জোটের ক্ষমতা কিছুটা হলেও তো বাড়বে। দু’নম্বর হল, সিপিএম সদস্যরা জন ব্রিটাসের নেতৃত্বে সিপিএম সাংসদেরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, রাহুল গান্ধী কেন সিপিএম-কে ‘বিজেপির বি-টিম’ বলেছে, কেন সিপিএম-কে সিজেপি বলেছে তাই নিয়ে। দেশজুড়ে এক ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে, সেখানে রাহুল গান্ধী এরকম কথা বলে বিজেপি বিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। এবারে এক্কেবারে পরিস্কার তো কেমিস্ট্রিটা? হ্যাঁ, তৃণমূলের লোকসভা রাজ্যসভা মিলিয়ে ৪২ জন সদস্য, সিপিএম-এর ৭ জন। হ্যাঁ, নাম্বার ম্যাটারস। আর সবচেয়ে বড় কথা হল, কেরলমে সিপিএম-কংগ্রেস মুখোমুখি, প্রায় অস্ত্বিত্বের লড়াই লড়ছে। কাজেই তৃণমূল আপাতত রাহুল গান্ধীর কাছে স্বাভাবিক মিত্র, সেই রসায়নেই কাছাকাছি এসেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অবস্থান বদলে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সায় দিল, আর কংগ্রেস চিফ ইলেকশন কমিশনারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের ইমপিচমেন্টের প্রস্তাবে সায় দিল। দু’দল কি কাছাকাছি আসছে? এ রাজ্যেও কি হাত ধরবে জোড়া ফুল? শুনুন মানুষজন কী বলছেন।
এই লেখার সময়েই জানিয়েছি, সিপিএম সাংসদদের ক্ষোভের কথা, তাঁরা ক্ষুব্ধ কারণ রাহুল গান্ধী ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম নেতা, কংগ্রেস দলের অন্যতম মুখ, তিনি সিপিএম-কে ‘বিজেপির বি-টিম’ বলেছেন, বলেছেন সেটিং আছে দুই দলের মধ্যে। এটা নাকি বিরোধী ঐক্যের উপরে বিরাট আঘাত ইত্যাদি। তো তেনাদের মনেই নেই বা সুযোগ বুঝেই ভুলেই গিয়েছেন যে, গত ১০ বছর ধরে লাগাতার এই বাংলাতে এই সিপিএম ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম দল আর তার নেত্রীকে বিজেপির বি-টিম বলেই চলেছেন, সেটিং তত্ত্ব নিয়ে এবারেও হাজির হয়েছেন নির্বাচনের আগে। রোজ সেই কথাই বলছেন কমরেড মহম্মদ সেলিম। আসলে কথায় আছে না নিজের বেলায় আঁটিশুটি, পরের বেলায় দাঁতকপাটি, সিপিএম-এর অবস্থাটা এক্কেবারে তাই। সে যাই হোক, রাজনীতি এক অপার সম্ভাবনার শিল্প, গতকাল শোনা গেল যুবরাজ, তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে ক্লোজ ডোর মিটিং করেছেন, দেখা যাক নতুন কোনও সমীকরণ বেরিয়ে আসে কী না।
দেখুন আরও খবর:
