কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে লিফ্‌ট? নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি? নমুনা সংগ্রহ ফরেনসিক দল

0
25

কলকাতা: কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে লিফ্‌ট? শুধুই কি যান্ত্রিক ত্রুটি? আরজি করের (RG Kar Hospital Lift Death Case) লিফটে ঠিক কী ঘটেছিল, পরীক্ষা শুরু করল ফরেন্সিক দল। ফরেনসিক এক্সপার্টরা আরজিকর হাসপাতালে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। লিফট কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ কী – এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফরেন্সিক রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিদর্শন করছেন ট্রমা কেয়ার সেন্টার থেকে। দু’নম্বর লিফট থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা।

আরজি করের লিফ্‌টে আটকে বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন বছরের সন্তানের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। ভোররাতে ট্রমা কেয়ারের লিফ্‌টে আটকে পড়েন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী এবং সন্তানও। অভিযোগ, লিফ্‌ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, ভোরবেলায় লিফটে ওঠার পরই আচমকা সেটি অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃতের শরীরের পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল। হাত-পা, পাঁজরের পাশাপাশি হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও প্লীহা ফেটে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যা থেকে অনুমান, দুর্ঘটনার সময় প্রবল ধাক্কা লেগেছিল। পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় লিফটে কোনও কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। সঠিক সময় তালা খোলা গেলে অরূপকে বাঁচানো যেত। কিন্তু তাঁর স্ত্রী, সন্তানের প্রাণপণ চিৎকার সত্ত্বেও কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। ভাঙা যায়নি তালা।

আরও পড়ুন: ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ? শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন কমিশনের! কবে কাজ শুরু? কীভাবে আপিল?

সরকারি হাসপাতালের লিফ্‌টের সামনে লিফ্‌টম্যানের থাকার কথা। কেন ওই লিফ্‌টে কেউ ছিলেন না? প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবারই এই ঘটনায় তিন জন লিফ্‌টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ, নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান, শুভদীপ দাসকে টালা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। শনিবার ফরেনসিক দফতরের পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞদের একটি দল সংশ্লিষ্ট লিফ্‌ট থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। কোন তলা থেকে অরূপেরা লিফ্‌টে উঠেছিলেন, কোন বোতাম টিপেছিলেন, লিফ্‌ট কোথায় তাঁদের নিয়ে গিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগে থেকেই লিফ্‌টে যান্ত্রিক সমস্যা থাকলে তা কেন নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়নি? উঠছে সেই প্রশ্নও। রবিবার ঘটনাস্থলে যাবেন ফরেনসিক দফতরের জীববিদ্যা বিভাগের আধিকারিকেরা। লিফ্‌টের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল কি না, ঠিক কোথায় গলদ ছিল, খুঁজে বার করতে মরিয়া তদন্তকারীরা। লালবাজারের গোয়েন্দারা বিষয়টি দেখছেন। টালা থানা থেকে হোমিসাইড বিভাগ তদন্তভার গ্রহণ করেছে।ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, হাসপাতালের ৩২টি লিফটেই এবার থেকে কর্মী ছাড়া কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here