আমি ইউটিউবারদের ওপিনিয়ন পোলের কথা বলছি না, ওগুলো হল ‘ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার’, তাঁদের না জানা আছে পদ্ধতি, না আছে সামর্থ্য। খুব ছোট্ট করে বাংলা জুড়ে একটা সমীক্ষা করতে কমসম করে লাখ ২০-৩০ খরচ হবে, কাজেই বাংলার কোনও ইউটিউবারের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁরা যা করেন বা করতে পারেন, তা হল এক ধরণের অঙ্ক কষা। আগের ভোটে কী হয়েছিল? তার আগের ভোটে কী হয়েছিল? এবারে ক্যান্ডিডেট কারা? ইস্যু আর প্রচারের ভিত্তিতে একটা ধারণা দেওয়া – ওগুলো সমীক্ষা নয়। কাজেই ওই ইউটিউবারদের সমীক্ষাতে তৃণমূল ২২৬-২৫০ পাচ্ছে, আবার বিজেপি ২৪৬-২৭০ পাচ্ছে। কাঠবুড়ো ইউটিউবার সবজায়গাতেই ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য এখন বিখ্যাত। তো তিনিও বলেছেন, এবারে সব উলটে যাবে, পালটে যাবে। কী আর করবেন, আবার জেলে ঢোকার চেয়ে হাজিবাজি বকা ভালো! কিন্তু কিছু সমীক্ষা হয়েছে, বড় সমীক্ষা, মানে আমি বলছি না সেখানেও খুব বিরাট পদ্ধতি মেনে কিছু করা হয়েছে, কিন্তু অনেকটা চেষ্টা হয়েছে, সেসব সমীক্ষার জন্য স্যাম্পল সাইজ কত? মেথড কী ছিল? ইত্যাদির আভাস অন্তত পাওয়া গিয়েছে, সেসব সমীক্ষা যাঁরা পাবলিশ করছেন বা টিভির পর্দায় দেখাচ্ছেন, তাঁরা সেসব দেখানোর সময়ে বলে দিচ্ছেন যে, এই সমীক্ষা তাঁরা করেননি, তবুও বড় চ্যানেলের একটা গুডউইলের ব্যাপার তো আছে। মজার কথা হল, সেই সমস্ত ক’টা সমীক্ষাতে তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে, একটাতেও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়নি। সেটাই বিষয় আজকে, প্রতিটা ওপিনিয়ন পোল কেন তৃণমূলকেই জিতিয়ে দিচ্ছে?
ওপিনিয়ন পোল মেলে, নাকি মেলেই না? যদি একটু পুরনো ওপিনিয়ন পোলগুলোর দিকে নজর দেন, তাহলে দেখবেন যে ওপিনিয়ন পোল কখনও কখনও এক্কেবারে মিলে গিয়েছে, কখনও কখনও এক্কেবারে মেলেনি, অর্ধেক মিলেছে, এরকম নানান তথ্য পাবেন। কিন্তু বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে করা, বেশ কিছু নির্বাচনের সময়ে করা ওপিনিয়ন পোলের হিসেব নিয়ে বসে দেখেছি, ওপিনিয়ন পোল কিন্তু একটা প্রবণতার দিক নির্দেশ করতে পারে। মানে ধরুন ৫-৬ ওপিনিয়ন পোল হল, তারা জানালেন এক্স পার্টি জিতছে, কেউ বললেন ১০০-তে ৮০টা পাবে, কেউ বললেন ৯০টা, কেউ বললেন ৬০টা কেউ বললেন ৭০টা পাবে। সেরকম ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই দল জিতেছে। হ্যাঁ, সংখ্যাটা অনেকের সঙ্গেই মেলেনি, হয়তো ৬৫ পেয়ে জিতেছে। হ্যাঁ, এই ওপিনিয়ন পোল সাধারণভাবে এক দিক নির্দেশ করে, কারা এগিয়ে সেটা বলে দেয়। তো এবারে বাংলার ভোট ঘোষণার পরে অন্তত পাঁচটা বড় ওপিনিয়ন পোলের কথা শুনছি।
আরও পড়ুন: Aajke | এই মুহূর্তে ভোট হলে শুভেন্দুর আম-ছালা দু’টোই যাবে
‘দ্য সাট্টা বাজার’, এদের সমীক্ষা হয় না, কিন্তু এদের কাছে এক বিরাট ডেটাবেস থাকে। আর এই সাট্টাবাজারের প্রবণতা বেশিরভাগ সময়েই ঠিক হয়। তারা জানাচ্ছে, তৃণমূল ১৮২–১৮৫, বিজেপি ১০১–১০৪ টা আসন পাবে। এর পরে ‘দৃষ্টিভঙ্গি ওপিনিয়ন পোল’, এদের স্যাম্পল সাইজ খারাপ নয়, কিন্তু এক্কেবারে নতুন, মেথড ইত্যাদি কিছুই বলেননি। এনারা বলছেন তৃণমূল ২২৩ আর বিজেপি ৬৯টা পাবে, ‘মাতৃজ আইএএনএস’-এর সার্ভে এবিপি-তে দেখিয়েছে, এরা বেশ পুরানো এবং স্যাম্পল সাইজ বড় আর মেথড দেওয়া আছে। এনাদের হিসেবে বিজেপি ১০০–১১৫, তৃণমূল ১৫৫–১৭০। ‘উইপ্রিসাইড’ নামে আরেকটা সমিক্ষক সংগঠন, তারা জানিয়েছে তৃণমূল ২০৬–২১৮, বিজেপি ৭৫–৮৫, মানে প্রায় স্থিতাবস্থার কথাই বলেছে। এসেছে ‘নিউজ এইট্টিন’-এর সমীক্ষা, তারা জানাচ্ছে তৃণমূল ১৮৪–১৯৪, আর বিজেপি ৯৮–১০৮ খানা আসন পেতে পারে। যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেই কথাতে ফিরি, হ্যাঁ, এখনও পর্যন্ত একটা বড় সমীক্ষাতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়নি, আর এই প্রবণতা যত পরিস্কার হবে, তত বিজেপির বিপদ বাড়বে। কারণ আমাদের রাজ্যে রাজনীতির সঙ্গে পেটের ভাতের এক সাংঘাতিক যোগাযোগ আছে, রাজনীতি মানে এক্কেবারে ভোটের রাজনীতি, কাজেই প্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়বেন এক বিরাট সংখ্যক মানুষ আর সেই কাসকেড এফেক্টে তৃণমূলের জয় আরও বড় হয়ে উঠবে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, বেশিরভাগ প্রাক নির্বাচন সমীক্ষাতে তৃণমূল এগিয়ে আছে, আপনারা এই নির্বাচন সমীক্ষাগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেন? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।
হ্যাঁ, ‘ওপিনিয়ন পোল’-এর থেকে ‘একজিট পোল’ আরও একটু বেশি বিশ্বাসযোগ্য, সেসব একজিট পোল আরও একটু বেশি মিলে যায়। আবার বহু ওপিনিয়ন পোল তো মেলে না, বহু একজিট পোলও মেলে না। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে একগুচ্ছ নির্বাচন সমীক্ষাতে তৃণমূলের এগিয়ে থাকা, তৃণমূলের র্যাঙ্ক অ্যান্ড ফাইলকে দু’পয়সা বেশি অক্সিজেন যোগাবে, এ তো বলাই বাহুল্য। হ্যাঁ, সেটাই আগামী বাংলার রায়কে অনেকটা প্রভাবিত করবে।
দেখুন আরও খবর:

