কলকাতা: নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত আরও আটটি নির্দেশিকা দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির ভোটমুখী এই রাজ্যগুলিতে নির্দেশিকা পালন করতে বলা হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ওই নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কনডাক্ট (এমসিসি) যাতে সঠিকভাবে পালন করা হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভাবে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সব দলকে সমান সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, সরকারি দফতর, অফিস বা অন্যান্য সরকারি স্থানে থাকা সব ধরনের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন, পোস্টার, ব্যানার বা হোর্ডিং দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাছাড়া কমিশনের তরফে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি কোষাগারের টাকায় কোনও রকম নির্বাচনী বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশে কমিশনের বার্তা, বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনও বাড়়ির সামনে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। দেওয়াল লিখন বা দলীয় পতাকা লাগানোর ক্ষেত্রেও বাড়ির গৃহকর্তার অনুমতি নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে।নির্বাচনী বিধিভঙ্গ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য একটি নম্বর (১৯৫০) দিয়েছে কমিশন। এই নম্বরে ফোন করে ডিইও বা আরও-দের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। পাশাপাশি ‘ইসিআইনেট’-এর মাধ্যমে ‘সি-ভিজিল’ অ্যাপ ব্যবহার করেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো যাবে।নির্বাচনী বিধি কার্যকর রাখতে পাঁচটি রাজ্যে মোট ৫,৭১৩টির বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যেই এই স্কোয়াড ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাতে প্রায় ৫,২০০টি স্ট্যাটিক সারভেল্যান্স টিমও মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন।
