গরমিল বরদাস্ত করা হবে না, রাজ্যের ৭ জেলাশাসককে নানা কারণে সতর্ক করল কমিশন

0
26

কলকাতা: এসআইআরের শুনানি পর্বের শেষ পর্যায় কাজ কেমন চলছে, শংসাপত্র যাচাই সংক্রান্ত একাধিক বিষয়-সহ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) প্রস্তুতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠকে বসল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের সতর্ক করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar Chief Election Commissioner)।”এসআইআর-এর কাজ নিয়ে সতর্ক থাকুন আপনারা।

কমিশনের সম্পূর্ণ বেঞ্চ ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় কোনও বিদেশি নাগরিককে যদি পাঁচ বছর পরেও শনাক্ত করা যায়, তা হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। বহু বছর পর্যন্ত এই সমস্ত নথি সংরক্ষিত থাকবে কমিশনের কাছে। বৈঠকে অন্তত সাতটি জেলার জেলাশাসক কমিশনের তোপের মুখে পড়েছেন। বৈঠকে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের সতর্ক করে কমিশনার বলেন, “আপনারা ভাববেন না যে আপনারা পালিয়ে যেতে পারবেন। আজ না হোক আগামী দু’বছর বাদেও কমিশন পদক্ষেপ করতে পারবে।” বিভিন্ন জেলাশাসক তথ্য ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের সতর্ক করে এমন বার্তায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন দিল বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন: SIR প্রক্রিয়ার মাঝে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব কমিশনের

এসআইআরের নথি কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে দেরি হওয়ায় ভর্ৎসিত হয়েছেন কোচবিহারের জেলাশাসক। এ ছাড়া, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের সমালোচনা করা হয়েছে ভার্চুয়াল বৈঠকে। কমিশনার বলেন, “অনেক জায়গা থেকেই ভুল ডকুমেন্ট আপলোড করা হচ্ছে। ডকুমেন্ট হিসেবে কোথাও আবার সংবাদপত্র আপলোড করে দেওয়া হয়েছে, আবার পাসপোর্ট আপলোড করা কথা বলা হলেও পাসপোর্ট এর জায়গায় ব্ল্যাঙ্ক পেপার আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা দুই জেলার জেলাশাসককে উদ্দেশ্য করে ভুল ডকুমেন্টগুলি দেখিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করলেন। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয়ভাবে জেলাশাসকরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেবেন। তাদের কাছে ডকুমেন্টস না থাকলে স্থানীয়ভাবে জেলাশাসকরা সুপারিশ করে পাঠিয়ে দেবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর কাছে।” বৈঠকে নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও গরমিল বরদাস্ত করবে না নির্বাচন কমিশন। বিদেশি কোনও নাগরিক যাতে চূড়ান্ত তালিকায় থেকে না-যান, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন।”এসআইআর এর কাজ সঠিকভাবে এবং নিখুঁতভাবে করতে হবে আপনাদের।অকারণে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য আপলোড করবেন না। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট নথির বাইরে অন্য কোন নথি নেওয়া যাবে না। সে দিক থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।কোনভাবেই কোন অপাসঙ্গিক নথি আপলোড যাতে না হয় সেটা নজর রাখুন। আমাদের ভালো মানের কাজ চাই। যেগুলি ইতি মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে সেগুলির আবার যাচাই করুন। যাতে ভোটার তালিকায় অনৈতিকভাবে কোন নাম ঢুকতে না পারে বা নাম যাতে বাদ না যায়। শুনানিতে জমা পড়া সমস্ত নথি কমিশনের অনুমোদিত, নিশ্চিত করতে হবে ডিইও-দের। তাঁরা ব্যক্তিগত ভাবে যাচাই করে তা নিশ্চিত করবেন। সময় দেওয়া হয়েছে আগামী সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই সময়ের পর যদি অননুমোদিত কোনও নথি কমিশনের সিস্টেমে থাকে, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে ব্যক্তিগত ভাবে তার জন্য দায়ী করা হবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে কমিশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here