ওয়েব ডেস্ক : কঙ্গোয় (Congo) ভয়াবহ আকার নিয়েছে ইবোলা সংক্রমণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪,৩৮১ জনের শরীরে সংক্রমণ হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২,০১১ জনের। হাসপাতালে ভর্তি ও আইসোলেশনে রয়েছেন আরও ৭০৪ জন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার তুলনায় ভাইরাসের (Virus) বিস্তার অনেক দ্রুত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীরা।
সরকারিভাবে ১৫ মে থেকে ইবোলার (Ebola) প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হলেও, স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দাবি, ভাইরাসটির উপস্থিতি তারও কয়েক মাস আগে, ফেব্রুয়ারি থেকেই ছিল। প্রথম ১,০০০ জনের মৃত্যু হতে সময় লেগেছিল প্রায় ন’সপ্তাহ। কিন্তু পরের ১,০০০ মৃত্যু ঘটেছে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে। পূর্ব কঙ্গোর ইটুরি প্রদেশকে এই সংক্রমণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও খবর : আমেরিকায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অন্ধ্রের ২৬ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে সশস্ত্র সংঘর্ষ, দুর্গম রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যায়। প্রত্যন্ত এলাকায় আক্রান্তদের কাছে পৌঁছতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তার উপর পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগে বহু স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতিতে গিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, নতুন আক্রান্তদের বড় অংশই এখনও স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারিতে থাকা কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার তালিকায় নেই। ফলে কোথা থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তরফে জানা যাচ্ছে, কঙ্গোয় ইবোলার নয়া ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে সেটি হল বুন্দিবুগি। মারণ এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। যার জেরে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর।
ইটুরি প্রদেশে সম্ভাব্য টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। তবে মৃত্যুহারও প্রায় ৪৫.৯ শতাংশ, যা ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ৩৯.৬ শতাংশের চেয়ে বেশি। WHO-র আফ্রিকা বিভাগের আঞ্চলিক অধিকর্তার কথায়, স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন ভাইরাসের পিছনে ছুটছেন, কিন্তু ভাইরাসই যেন এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।
