কলকাতা: কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, মুখ্যসচিব-সহ আধিকারিকদের অপসারণের বিরুদ্ধে তৃণমূলের মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) রাজ্যের আইএএস ও আইপিএসদের অন্য রাজ্যের বদলি করেছে সেই সংক্রান্ত মামলার আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২৬৭ জন আধিকারিক স্থানান্তর ওসি এবং বিডিওদের স্থানান্তর সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা আবেদনও খারিজ করলেন প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ। আবেদনকারী এবং রাজ্য আদালতে জানায়, নির্বাচন কমিশন ১৯৫০ এবং ১৯৫১ সালের নির্বাচনী আইনে অন্তর্ভুক্ত বিধিবদ্ধ বিধানের পরিপন্থী কাজ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ
আবেদনের মূল অংশে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত কোনও ভিত্তি না থাকায়, আদালত এই বিষয়টি পরীক্ষা করার কোনও কারণ দেখছে না। আবেদনকারী বলেন, নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের বদলি করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু সেই ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারীভাবে ব্যবহার করা যায় না।আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ক্ষমতাটি স্বেচ্ছাচারীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে জনস্বার্থের কোনো ক্ষতি হয়েছে এমন প্রমান আবেদনকারী করতে পারেনি। জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার জন্য এই প্রাথমিক উপাদানটি প্রতিষ্ঠা করতে না পারায়, আবেদনটি গ্রহণ করা যাবে না। এস.পি. গুপ্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হচ্ছি যে, আবেদনকারী এটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি যে কর্মকর্তাদের বদলির কারণে কোনো জনস্বার্থের ক্ষতি হয়েছে।আদালতের নির্দেশ জনস্বার্থ মামলাটি সারবত্তাহীন এবং সেই অনুযায়ী খারিজ করা হল।
আরও পড়ুন:টিকিট না পেলে বিরোধিতা কেন? বেলদা থেকে দলের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা মমতার
গত ১৫ মার্চ রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়েছে। ওই রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় কমিশন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকে সরানো হয় জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও।রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তাকে বদলি করেছে কমিশন। তা নিয়ে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। গত ২৩ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে ওঠে। মামলাকারীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আধিকারিক অপসারণ নিয়ে কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছিলেন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়েও।তবে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে।

