কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Case) ফের অব্যবস্থার অভিযোগে চাঞ্চল্য। শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসে স্ট্রেচার না পেয়ে শৌচালয়ে হাঁটতে গিয়ে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নাক দিয়ে রক্তপাত ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। রাতে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও শৌচালয়ে যাওয়ার সময়ই বিপত্তি। অভিযোগ, ট্রমা কেয়ারের কাছে শৌচালয় না থাকায় কর্মীরা তাঁকে বাইরে বা দোতলায় যেতে বলেন। কিন্তু স্ট্রেচার মেলেনি। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটেই দোতলায় যাওয়ার পথে আচমকাই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: বসন্তে শীতের আমেজ! বৃষ্টিভেজা কলকাতার তাপমাত্রা নামল ২০-র নীচে
মৃতের স্ত্রী ইলা সামন্তের অভিযোগ, “অসুস্থ মানুষকে হাঁটিয়ে শৌচালয়ে যেতে বলা হল! স্ট্রেচারটুকুও দিল না কেউ। এভাবেই মারা গেল।” পুত্র বিশাল সামন্তের কথায়, “কাছাকাছি শৌচালয় নেই। স্ট্রেচারও দেওয়া হয়নি। হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে গেলেন। যদি ব্যবস্থা থাকত, হয়তো বাঁচানো যেত।”
যদিও হাসপাতাল সূত্রে দাবি, ট্রমা কেয়ার সেন্টারে শৌচালয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন রোগীকে বাইরে যেতে বলা হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পুরো ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে সবাই।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই একই ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকে মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মৃত্যুর অভিযোগে চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ডের পর নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, দেড় বছর পরও তা মিটল কি না, এই ঘটনাই ফের সেই প্রশ্নকে সামনে এনে দিল।

