পীযূষ কান্তি নাগ
ওয়েব ডেস্ক : মা ও শিশুর নাড়ির টান বড়ই অদ্ভুত। তাই পরিবারের প্রতিবন্ধকতা ও আইনি মারপ্যাঁচ উপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত জয় হল মাতৃত্বের। পরিবারের অমতে নিজের পছন্দের গোপনে বিয়ে সেড়ে ছিলেন কলকাতার প্রমা পোদ্দার ( পরিবর্তিত নাম )। তাঁর গর্ভস্থ শিশু ভূমিষ্ঠ হতেই সামাজিক সম্মান রক্ষার্থে নিজের মা-ই সদ্যোজাতকে নর্দমায় ফেলে দিয়েছিলেন। দুধের শিশু মায়ের বুক থেকে কেড়ে নেওয়ায় দু’বছর ধরে হন্যে হয়ে আইনের দ্বারে ঘুরছিলেন প্রমা ( পরিবর্তিত নাম ) ও তাঁর স্বামী। শেষমেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে চলেছেন শিশুহারা মা।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ২৩ মার্চ সদ্যোজাতকে নর্দমা থেকে উদ্ধার করে আরজি কর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। শিশুর খোঁজ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তাঁর প্রকৃত বাবা-মা। কিন্তু নিজেদের পরিচয় দিলেও কোনও মতেই তা মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বরং শিশুটিকে ‘পরিত্যক্ত’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। ওই বছরই এপ্রিল মাসে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিডব্লিউসি)।
নবজাতকের নতুন নাম রাখা হয় রিসভ ( পরিবর্তিত নাম )। সন্তান ফিরে পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন প্রমা ( পরিবর্তিত নাম ) ও তাঁর স্বামী। হাইকোর্টের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা ও সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবের রিপোর্টে প্রমাণিত হয়, জৈবিক বাবা-মা তাঁরাই।
আরও খবর : পুজোর আগেই চালু ‘যুবশক্তি’ পোর্টাল! কবে মিলবে ৩ হাজার টাকার বেকারভাতা, কারা পাবেন সুবিধা?
কিন্তু বাবা-মাকে শুনানির সুযোগ বা নোটিশ না দিয়ে শিশুকে দত্তক দেওয়ার নোটিশ জারি করে সিডব্লিউসি। প্রমা ( পরিবর্তিত নাম ) ও তাঁর স্বামীকে শিশু প্রতিপালনে অক্ষম হিসেবে দাবি করা হয়। ফের আদালতের দ্বারস্থ হন শিশুর জৈবিক বাবা-মা। দীর্ঘ শুনানির পর কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) রায় দিয়েছে, শিশুটিকে অবিলম্বে তার দত্তক বাবা-মা ৭ অগাস্টের মধ্যে কলকাতার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে দিয়ে দেবেন।
শিশুটিকে সমর্পণের পর তাকে বিশেষ দত্তক সংস্থায় নিরাপদে রাখবে কমিটি। এর পর জৈবিক বাবা-মাকে আত্মপত্র সমর্থনের সুযোগ এবং পুলিশি রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ করতে হবে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কর্তৃপক্ষকে।
সন্তান ফিরে পেতে এবং কমিটির জারি করা দত্তকের নোটিশ খারিজ চেয়ে প্রমার ( পরিবর্তিত নাম ) আবেদন গ্রহণ করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘বাবা-মা ব্যাকুলভাবে সন্তান ফেরত পেতে চাইলেও কোনওরকম অনুসন্ধান না করে শিশুকে পরিত্যক্ত বলা সম্পূর্ণ আইন বিরুদ্ধ। কমিটি পিতা-মাতাকে অক্ষম ঘোষণা করার মতো কোনও সামাজিক তদন্ত রিপোর্ট বা অর্থনৈতিক ও মানসিক মূল্যায়ন করেনি। অনুসন্ধানের বদলে মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করে আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট উপেক্ষা করে মা’কে সম্পূর্ণ আড়াল রেখে শিশুকে দত্তক দেওয়া হয়েছে।’
