নয়াদিল্লি: রামমন্দিরের (Ram Temple) উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Narendra Modi) আমন্ত্রণের কি প্রয়োজন ছিল? এমনই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি (Opposition Parties)। কংগ্রেস (Congress) জানতে চেয়েছে, এটা কি শুধু বিজেপির (BJP) অনুষ্ঠান? উদ্ধব ঠাকরের অনুগত শিবসৈনিক সঞ্জয় রাউত বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এই অনুষ্ঠান। বুধবার সন্ধ্যায় মোদি এক এক্স বার্তায় জানান, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট (Shri Ram Janambhoomi Trust) তাঁকে আগামী ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় (Ayodhya) রামমন্দিরে বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর জন্য তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন। এরপরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিরোধীরা কটাক্ষের সুরে মোদি এবং বিজেপিকে বিঁধতে শুরু করেন।
কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ প্রশ্ন তুলে বলেন, এটা কি শুধু একটা রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান? একটি দলকেই কি আমন্ত্রণ জানানো হবে? রামমন্দিরের উদ্বোধন একটি দলের অনুষ্ঠান মনে হচ্ছে। কিন্তু ঈশ্বর বা ভগবান তো সকলের। সব দলেরই আমন্ত্রণ পাওয়া উচিত। ওরা একটা জিনিস অন্তত স্পষ্ট করে বলে দিক যে, সকলকেই নিমন্ত্রণ করা হবে, বলেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা।
উদ্ধব সেনার নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনও প্রয়োজন ছিল না। কারণ উনি নিজেই এতবড় অনুষ্ঠান হাতছাড়া করতেন না। রামমন্দিরের জন্য কয়েক হাজার করসেবক জীবন দিয়েছেন। হিন্দুত্ববাদী সব সংগঠন এবং দল যুক্ত ছিল এর সঙ্গে। শিবসেনা, বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ছিল। লালকৃষ্ণ আদবানি রথযাত্রা করেছিলেন। এতকিছু ত্যাগের পথেই রামমন্দির গড়ে উঠেছে। এই কারণেই মোদি সেখানে গিয়ে পুজোপাঠ করতে পারবেন। কিন্তু আমি মনে করি, এতকিছু আসলে লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি।
মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ বলেন, রামমন্দির কি বিজেপির সম্পত্তি? দেশের সব মানুষের মন্দির। সনাতন ধর্মের সব থেকে বড় প্রতীক এই মন্দির। ডিএমকে নেতা টিকেএস এলানগোভান বলেন, ওরা ইতিহাসকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই জায়গায় পৌরাণিক কাহিনিকে স্থান দিয়েছে। রামের জন্ম একটি পৌরাণিক কাহিনি। রামায়ণের একটি গল্প মাত্র। এটা একটা সাহিত্য। ওরা পৌরাণিক কাহিনিকে ইতিহাসের জায়গায় বদলে দিতে চাইছে। বিজেপি রামকে রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।