চেন্নাই: হিন্দি ভাষার (Hindi Language) বিরোধিতায় কেন্দ্রের (Central) বিরুদ্ধে ফের একবার সুর চড়ালেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন (Tamil Nadu Chief Minister MK Stalin)।
ডিএমকে (DMK) নেতা বলেন, দিল্লি সরকার (Delhi Government) জোর করে ভাষা চাপিয়ে দিতে চাইছে, যার ফলে ২৫টি উত্তর ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষা চাপা পড়ে গিয়েছে। একগুচ্ছ হিন্দি ভাষার প্রতাপে বহু প্রাচীন ভারতীয় মাতৃভাষা আজ লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। স্ট্যালিন লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে বলেন, উত্তরপ্রদেশ (Uttarpradesh) আর বিহার (bihar) কখনই হিন্দি ভাষার প্রাণকেন্দ্র ছিল না। তাদের বর্তমান ভাষা হচ্ছে অতীতের ধ্বংসাবশেষ। এক্স হ্যান্ডলে একটি চিঠি লিখে কেন্দ্রকে এই কথা জানিয়েছেন ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন।
জাতীয় শিক্ষা নীতির অধীনে কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া হিন্দি ভাষা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে স্ট্যালিন। তার বক্তব্য, জোর করে হিন্দিকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর তাদের সংস্কৃতি পিছনে পড়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাঞ্জাবি ভাষা না পড়লে ডিগ্রি বৈধ নয়, পঞ্জাবে ঘোষণা আপের
দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্যকে মুছে ফেলতে হিন্দিকে গোটা দেশের ভাষা করে তোলার চেষ্টা চলছে। যেখানে হিন্দি হবে, মুখ্য ভাষা আর বাকি সব গৌণ হয়ে যাবে। তার বক্তব্য হিন্দির দাপটে আজ উত্তর ভারতের অনেক ভাষাই অবলুপ্তির পথে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যেমন ভোজপুরি, মৈথিলী, অবধি, ব্রজ, বুন্ডেলি, গাড়োয়ালি, কুমায়নি, মগহি, মারওয়াড়ি, মালবি, ছত্তীসগড়ি, সাঁওতালি, অঙ্গিকা, হো, খারিয়া, খোর্ঠা, কুরমালি, কুরুখ এবং মুন্ডারি সহ অনেক ভাষা অবলুপ্তির পথে। নতুন শিক্ষা নীতিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সকলের উপরে হিন্দি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পিত প্রয়াস বলে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, যে বেশিরভাগ রাজ্য নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির বিতর্কিত তিন-ভাষা সূত্রের অধীনে সংস্কৃতকে প্রাধান্য দেয়, যা কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য-শাসিত স্কুল বোর্ড জুড়ে শিক্ষার্থীদের তাদের মাতৃভাষা, ইংরেজি এবং তাদের পছন্দের এক তৃতীয়াংশ শিখতে বাধ্য করে।
আন্দামান ছাড়া আর কোথাও তামিল পড়ানো হয় না। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলগুলির একটিতেও কোনও তামিল ভাষার শিক্ষক নেই।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন যে শুধুমাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী স্কুলে তামিল বেছে নিলেই শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
স্ট্যালিন আরও বলেন, “বেশিরভাগ রাজ্যে ত্রি-ভাষা নীতির অধীনে শুধুমাত্র সংস্কৃতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে তামিল দ্রাবিড় আন্দোলন দ্বারা সুরক্ষিত।”
স্ট্যালিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতেই চাই মহাকুম্ভে কি অন্য ভাষার সাইন বোর্ড ছিল না! সংবিধানের অষ্টম তফসিলে ২২টি সরকারি মান্যতা প্রাপ্ত ভাষা ছিল, কিন্তু তার অনেকগুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্ট্যালিন বলেন, হিন্দি উত্তরপ্রদেশের মাতৃভাষা নয়, ফলে উত্তরপ্রদেশ হারিয়েছে ভোজপুরি, বুন্দেলখান্ডি (বা বুন্দেলি)। কুমাওনিকে হারিয়েছে উত্তরাখণ্ড। রাজস্থান, হরিয়ানা, বিহার এবং ছত্তিশগড়ে স্থানীয় ভাষা হারিয়ে গেছে।”
দেখুন অন্য খবর: