নয়াদিল্লি: বন্ধুত্বের ( special relationship) উপর ভিত্তি করেই সিঙ্গাপুরে (Singapore) থেকে চাল রপ্তানির (Export Rice) অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ভারত (India)। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্দেশিকাও জারি করবে দ্রুত। দক্ষিণ-পূর্ব দেশটির “খাদ্য প্রয়োজনীয়তা মেটাতে” বন্ধিত্বের খাতিরে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সূত্রের এমনটাই জানা গিয়েছে। চলতি অগাস্ট মাসে চাল রপ্তানিতে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। প্রথমে বাসমতি সহ অন্যান্য চালের রপ্তানি আগেই নিষিদ্ধ করা হয়। পরে সিদ্ধ চালের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর মধ্যেই ফের চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।
এশিয়ান দেশগুলির মধ্যে ভারতের আঞ্চলিক ও বৃহত্তর পররাষ্ট্র নীতিতে সিঙ্গাপুর এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই সিঙ্গাপুরে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে উদ্যোগী ভারত। আগামী সেপ্টেম্বরে মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জি২০ সম্মেলনের। তার আগেই ভারতের এই চাল রপ্তানি নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মতো চিনের সঙ্গে সুমধুর সম্পর্ক সিঙ্গাপুরের। তার মাঝে বিপদে বন্ধুর দিকে সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত। চাল রপ্তানির হাত ধরেই ভারত ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে সম্পর্কে আরও উন্নতি ঘটবে বলেই বিশ্বাস রাজনৈতিক মহলের। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও জন সম্পর্ক ক্রমাগত মজবুত হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: মোদি মিথ্যা বলছেন, চীনা মানচিত্র নিয়ে ফের প্রধানমন্ত্রীকে তির রাহুলের
এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছেন, “ভারত এবং সিঙ্গাপুর খুব ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে।এই দু দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে। এই বিশেষ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারত খাদ্য প্রয়োজনীয়তা মেটাতে চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত অগাস্ট বাসমতি চালের রপ্তানিতে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে যাতে অ-বাসমতি সাদা চালের রপ্তানি রোধ করা যায়, যা বর্তমানে নিষিদ্ধ বিভাগের অধীনে রয়েছে। গত রবিবার, সরকার বলেছে যে তারা ভুল শ্রেণিবিন্যাস এবং নন-বাসমতি সাদা চালের অবৈধ রপ্তানির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য ফিল্ড রিপোর্ট পেয়েছে। নন-বাসমতি সাদা চাল পারবোল্ড চাল এবং বাসমতি চালের এইচএস কোডের অধীনে রপ্তানি করা হচ্ছে,” সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে।
উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০ জুলাই থেকে নন-বাসমতি সাদা চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। সরকার লক্ষ্য করেছে যে কিছু জাতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা সত্ত্বেও, চলতি বছরে চাল রপ্তানি বেশি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০ জুলাই চাল রপ্তানির নিয়ম সংশোধন করে নন-বাসমতি সাদা চালকে “নিষিদ্ধ” করে। ভারত নতুন করে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করায় অন্যতম প্রধান এই খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর এর মধ্যেই বিধিনিষেধ পাশ কাটিয়ে বিবেচনায় সিঙ্গাপুরে চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। প্রসঙ্গত, বিশ্বের সর্ববৃহৎ চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত। বিশ্ববাজারে মোট চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশই যায় ভারত থেকে। চাল রপ্তানির শীর্ষে থাকা অন্য দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্র।