নয়াদিল্লি : মনে আছে দৃশ্যম (Drishyam) ছবির সেই খুনের কথা? খুন(Murder) করে দেহ লোপাট করার পর পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ টিকিটিও ছুঁতে পারছে না খুনির। সেই একই আদলে খুনের ছক কষে শ্রীঘরে খুনের চেষ্টায় অভিযুক্ত অমরপাল। উত্তর দিল্লির (Delhi) মঞ্জু কা টিলার বাসিন্দা অমরের সঙ্গে অনেকদিন থেকেই শত্রুতার সম্পর্ক প্রতিবেশী ওমবির পরিবারের সঙ্গে। ২৯ জুন ওমবির ও অমরপালের মধ্যে ঝগড়া হয়। অভিযোগ, এরপর ওমবিরের মাকে খুন করে অমরপাল।
আরও পড়ুন : যোগী রাজ্যে খবর করে সাংবাদিক খুন
খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয় অমরপাল। জেলে পাঠানো হয় তাকে। ৬০ দিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পায় অমরপাল। পুলিশ জানিয়েছে, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পরে সাক্ষীদের উপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে সে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে সাক্ষীদের ভুয়ো মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। সেইমতো নিজের ভাই গুড্ডু ও আরও এক ভাই অনিলের সঙ্গে ছক কষে সে। অমরপাল তাদের হিন্দি ক্রাইম থ্রিলার (Crime Thriller) ‘দৃশ্যম’ দেখায়। তারপর ছবির প্লট অনুযায়ী চলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। প্ল্যান অনুযায়ী, সে লোকজনকে বোঝাতে থাকে যে ওমবিরের পরিবার তাকে হুমকি দিচ্ছে।
এরপর ভুয়ো খুনের চেষ্টার পরিকল্পনা করে তারা। সেইমতো তারা সিদ্ধান্ত নেয়, অনিল অমরপালের উপর গুলি চালাবে। এরপর সে পুলিশকে জানাবে, এই ঘটনার পিছনে ওমবির ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। ঘটনার রূপ দিতে অমরপাল একটি দেশি পিস্তল ও গুলি জোগাড় করে, যাতে তার উপর আক্রমণটা কমের উপর দিয়ে যায়৷
আরও পড়ুন : আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে ভোজ, গ্রেফতার ১
এরপর শুরু হয় জায়গা বাছাই পর্ব। তারা ভাবে, ঘটনাটি এমন জায়গায় ঘটাতে হবে, যেখানে সাক্ষী দেওয়ার মতো অনেককেই পেয়ে যাবে। পরিকল্পনা মতো উত্তর দিল্লির খাইবার পাস বলে একটি জায়গাকে বেছে নেয় অমরপাল ও তার সঙ্গীরা। খাইবার পাসে প্রায়ই যেত অমরপাল। সেখানে বহু মানুষ চিনত তাকে। তাই সাক্ষীর অভাব হবে না। সেইমতো অমরপাল খাইবার পাসে পৌঁছয়। সেখানে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় কাটায় সে। এরপর ভাই গুড্ডুকে ফোন করে প্ল্যান মতো কাজ করতে বলে অমরপাল। ফোন পেয়ে গুড্ডু, অনিল ও মণীশ কে নিয়ে সেখানে পৌঁছয়। অমরপালের উপর গুলি চালিয়ে সেখান থেকে পালায় অনিল। পুলিশ জানিয়েছে, এরপর আহত অমরপাল তার এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে বলে তার শ্ত্রুরা তাকে মারার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন : নিয়ন্ত্রণে দিল্লির জুতো কারখানা আগুন, নিখোঁজ ৬
তবে এত পরিকল্পনা করেও শেষমেশ ধরা পড়ে যায় গাজিয়াবাদের বাসিন্দা ৩০ বছরের অনিল। তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। গুড্ডু ও মণীশের খোঁজ চলছে।