সালোঁ-বিউটি পার্লার খোলা আছে ঠিকই। কিন্তু আপনার যেতে সাহস হচ্ছে না। করোনা সংক্রমনের জেরে চারিদিকে যা অবস্থা। এদিকে আবার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা কাটতে না কাটতেই ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে তৃতীয় ঢেউ। কিন্তু, এতে তো আর দৈনন্দিন জীবন আটকে থাকবে না। একইভাবে আটকে থাকবে না শরীরচর্চা ও রূপচর্চার প্রয়োজনীয়তা। শরীর, ত্বক, চুল, হাত ও পা সবকিছুরই যত্ন প্রয়োজন। সারাদিন অনেক কাজ করে আমাদের এই দুটি তাই একান্ত প্রয়োজনীয় হাত, হাতের সুরক্ষা, পরিষ্কার ও পরিচর্যা। শুধু নখ ফাইল করা বা নেল পোলিশ লাগালেই চলবে না। হাত সুন্দর ও সুস্থ রাখতে এই সহজ পদ্ধতি মেনে ঘরে বসেই করে ফেলুন ম্যানিকিউর।
১. প্রথমেই ম্যানিকিউর করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড় করে নিন। কী-কী লাগবে দেখে নিন
নেল পোলিশ রিমুভার
নেল ক্লিপার
কটন প্যাডস
নেল বাফার
কিউটিক্যাল পুশার ও নিপার
কিউটিক্যাল রিমুভার ও কিউটিক্যাল ক্রিম
হ্যান্ড ময়শচরাইজার
নখের জন্য বেস কোট
আপনার পছন্দের রঙের নেল পোলিশ
টপ কোট
২. নখ যদি নেল পোলিশ থাকে। তাহলে তা নেল পোলিশ রিমুভার দিয়ে মুছে নিন
পারলে নন-অ্যাসেটন নেল পোলিশ রিমুভার ও তুলো ব্যবহার করুন। এতে আপনার নখের চার পাশের অংশ শুষ্ক হবে না। অ্যাসেটন যুক্ত নেল পোলিশ রিমুভার ব্যবহার করলে নখের ক্ষতি হতে পারে। আপনি ঘন-ঘন রিমুভার ব্যবহার করলে নন অ্যাসেটন রিমুভার বেছে নিন।
৩. এবার দু’হাতের নখ কেটে ভাল করে ফাইল করে নিন
প্রথমে নখ কেটে নিন। খুব বেশি ছোট করে নখ কাটবেন না। এবার নেল ফাইলার দিয়ে ভাল করে ফাইল করে নিন। স্কোয়ার শেপড বা রাউন্ড শেপড সবথেকে বেশি চলে। তবে এছাড়া আপনার অন্য কোনও আকার পছন্দ হলে ফাইলারের সাহায্য তা করে নিতে পারেন। ফাইলি করার সময়ে আলতো হাতে করবেন খুব বেশি জোর দেবেন না।
৪. ফাইল করার পর হাত গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন
একটি বড় পাত্র বা কাচের বাটি নিন। এতে গরম জল ও বেবি শ্যাম্পু বা কোনও মাইল্ড ক্লেনজার দিন। এবার এই জলে কিছুক্ষণ আপনার হাত ভিজিয়ে রাখুন। ম্যানিকিউরের অত্যন্ত আরামদায়ক ধাপ এটি। এর ফলে আপনার নখের কিউটিক্যালস অনেকটা নরম হয়ে যাবে। এবং নখে জমে থাকা ময়লা ও নখের ত্বকের মৃত কোষগুলি হাল্কা হয়ে যাবে। এবার নেল ব্রাশ দিয়ে হাতের চেট ও তেল, নখের ওপর ও নখের ভিতর পরিষ্কার করে নিন। বেশিক্ষণ জলে হাত ভিজিয়ে রাখবেন না এতে হিতে বিপরীত হবে।
৫. কিউটিক্যাল ক্রিম লাগিয়ে কিউটিক্যালের পরিচর্যা করুন
এবার হাত ও নখ শুকনো করে মুছে নিন। মোছার পর নখে কিউটিক্যাল ক্রিম লাগান। আলতো করে কিউটিক্যাল পুশার দিয়ে কিউটিক্যাল হাল্কা পিছনে ঠেলে দিন। অতিরিক্ত চাপ দেবেন না নখে। চাপের ফলে নখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কেটে গিয়ে সংক্রমণ হতে পারে। এরপর অতিরিক্তি কিউটিক্যাল ক্রিম মুছে ফেলুন।
৬. হাতে ভাল করে ময়শচারাইজার লাগিয়ে নিন
ঘন ময়শচারাইজার ক্রিম বাছুন। এবং ভাল করে হাতে, নখ ও নখের পাশের ত্বক ক্রিম মালিশ করুন। প্রয়োজন হলে ক্রিম লাগানোর আগে ৩০ সেকেন্ডের জন্য গরম জলে হাত ভিজিয়ে নিন।
৭. এবার নখে নেল পোলিশ পড়ার জন্য তৈরি হন
নখে বেশি ময়শচারাইজার থাকলে নেল পোলিশের রঙ আপনার নখে বসবে না। তাই অতিরিক্ত ময়শচারাইজার থাকলে তা পরিষ্কার করে নেল পোলিশ লাগান। এবার নখে হাল্কা বেস কোট পড়ে নিন। ট্র্যান্সপ্যারেন্ট বা সাদা রঙের বেস কোট পড়ুন। গাঢ় রঙের নেল পোলিশের ক্ষেত্রে সাদা বেস কোট খুবই কার্যকরী। এতে গাঢ় রঙ দেখতেও ভাল লাগবে আবার নখে ছোপও পড়বে না। বেস কোট শুকিয়ে গেলে আপনার পছন্দের রঙ নখে পড়ে নিন। নেল পোলিশের শিশি না ঝাকিয়ে দুই তালুর ভিতরে রেখে ডলে নিন। শিশি ঝাকালে নেল পেইন্টে হাওয়ার বুদ-বুদ ভরে যায়। এর ফলে নেল পোলিশ পড়তে অসুবিধে হয়। নেল পোলিশ শুকিয়ে গেলে এবার নখে টপ কোট পড়ে নিন।
ব্যাস, আপনার তকতকে- ঝকঝকে হাত নেল পোলিশের ছোঁয়ায় এবার রঙিন!