ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া আর অকালে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া কিন্তু এক বিষয় নয়। দুটি ক্ষেত্রেই ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু অকালে ত্বক বুড়িয়ে গেলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এই সমস্য বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তাই সমস্যার সমাধানে প্রথমেই প্রয়োজন সঠিক কারণ খুজে বার করা। সাধারণত পরিবেশ দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ইদানীং অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। এই ধরনের ত্বকের অবস্থাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এক্সট্রিনসিক এজিং’ বলে। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এই সমস্যকার প্রতিকার করা অনেকটাই সম্ভব। প্রিম্যাচিউর স্কিন এজিং প্রতিরোধে এই পদক্ষেপগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
১. প্রিম্যাচিউর এজিংয়ের প্রধান কারণ সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মী। তা আপনি ছুটি নিয়ে সি বিচে সময় কাটান বা থলি হাতে বাজারে যান। চড়া রোদ থেকে বাঁচতে রোদ চশমা, ছাতা বা টুপি আর সানস্ক্রিন এই তিনটে না হলেই নয়।
২. সান ট্যান হওয়া মানেই ত্বকের বয়স বেড়ে যাওয়া। তাই ট্যান হলে বাড়িতে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নিন।
৩. ধুমপান করলে তা অবিলম্বে বন্ধ করুন। এর প্রভাবে ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়ে। শুধু তাই নয় মুখের চামড়া কুচকে যাওয়া ও ত্বকের ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়ে যায়।
৪. একই মুখের ভঙ্গিমা বার বার করবেন না। যেমন অনেকেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভুরু, চোখ বা কপাল কুচকেই কাটিয়ে দেন। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়। দীর্ঘদিন এইভাবে থাকতে থাকতে ত্বকে ভাঁজ বা রেখা পড়তে শুরু করে।
৫. প্রচুর পরিমাণে ফলমূল-শাকসবজি খাওয়ার প্রয়োজন। এগুলিতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থে আমাদের ত্বকের কোষ মেরামত করে প্রিম্যাচিউর এজিং আটকে রাখে। অন্যদিকে জাঙ্ক ফুড বা অতিরিক্তি মিষ্টি পানীয় খেলে এর প্রভাব ত্বকের ওপর পড়ে।
৬. মদ্যপান যত কম করা যায় ভাল। অ্যালকোহল শরীরকে শুষ্ক করে দেয়।
৭. শারীরিক কসরত অত্যন্ত জরুরী। এর ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
৮. ত্বকের পরিচর্যা করুন। পুরুষ বা নারী, ত্বকের যত্ন নিন। তবে ত্বকে অতিরিক্ত স্ক্রাবার ব্যবহার করবেন না । এতে ত্বক প্রয়োজনীয় আদ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এবং নিয়ম মেনে ময়শচারাইজার লাগান। ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় থাকলে তা সুস্থ ও সতেজ থাকবে।