অ্যালোভেরা তো নয়, যেন রূপচর্চার পরশ পাথর। শুধু কি রোদে পোড়া ত্বকের শুশ্রূষা? প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ আ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। ত্বক থেকে শুরু করে চুল, শরীর সুস্থ রাখতে সব ক্ষেত্রেই অ্যালেভেরার জয়জয়কার। তা এত গুণ যে গাছের, তা বাড়িতে না রাখলেই নয়। তবে অ্যালোভেরা বাড়িতে রাখলেই তো আর সমস্যার সমাধান হবে না। উপকার পেতে প্রয়োজন এই গাছের সঠিক পরিচর্যা। বাড়িতে এই গাছ রাখা, বড় করা ও রূপচর্চা ও অন্য কাজে কীভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন।
বাড়িতে অ্যালোভেরা রাখলে এই বিষয়গুলি জানা প্রয়োজন
কেনার সময় অ্যালোভেরার পাতার স্বাস্থ্য যাচাই করে নিন। পাতা যেন বড়, মোটা ও পুরু হয়। পাতায় হাত দিলেই কুঁকড়ে গেলে বুঝবেন পাতা সঠিক পরিচর্যা পায়নি।
অ্যালোভেরার চারা মাটির বা টেরাকোটার টবে রাখুন। এই গাছগুলি বেড়ে ওঠার জন্য ভাল শুকনো মাটির প্রয়োজন। এতে গাছের গোড়ায় পচন ধরতে পারে না। সাধারণত মাটির টবে ছিদ্র থাকে, যাতে বাড়তি জল বেরিয়ে যায় এবং হাওয়া চলাচল করতে পারে। এতে গাছের স্বাস্থ্য ভাল হয়।
হাল্কা টব ব্যবহার করুন। এর ফলে অনায়াসে গাছের জায়গা বদল করতে পারবেন। অ্যালোভেরার দিনে অন্তত ছ’ঘন্টা সূর্যের আলোর প্রয়োজন। জলেরও প্রয়োজন আছে, তবে সামান্য। প্রয়োজনে অ্যালোভেরার পাতায় জল ছিটিয়ে দিন। প্রত্যেকদিন গাছের মাটি পুরো ভিজিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
অ্যালোভেরার মিডিয়াম হিসেবে ক্যাক্টাস ও সাকিউলেন্ট গাছের জন্য তৈরি বিশেষ মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। এরা মাটিকে অতি উর্বর না-করে শক্ত ও ছিদ্রযুক্ত বানায়। গাছের ভাল স্বাস্থ্যের জন্য প্রতি দুই থেকে তিন বছর অন্তর মাটি বদলানো প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ভাল থাকলে এই অ্যালোভেরার পাতায় আবার নতুন পাতা গজাবে। এই পাতাগুলো কিছুদিন এই ভাবে থাকতে দিন। এই পাতাগুলো গাছের এক-চতুর্থাংশের আকারে বড় হতে দিন। নতুন পাতাগুলো বড় হয়ে গেলে অ্যালোভেরা গাছটা মাটি থেকে তুলে নিন। পুরোনো আর নতুন পাতা আলাদা করে নিন। এবং আলাদা আলাদা পাত্রে পুঁতে দিন।
অ্যালোভেরার পাতা থেকে জেল নেওয়ার সঠিক উপায়
অ্যালোভেরার পাতা লম্বা, খানিক বাঁকা ও একটু খরখরে হয়। এর ভেতরেই জেল থাকে। পাতা থেকে জেল বের করতে ধারালো ছুরি বা রান্নাঘরের কাঁচি ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে গাছের নীচের দিক থেকে একটি পাতা ভেঙে নিন। বা ছুরি দিয়ে কেটে নিন। এ বার একটি কাপে বা গ্লাসে কাটা অংশটা রাখুন। দেখবেন পাতার নীচে কাটা অংশ থেকে হাল্কা হলদেটে রঙের রস বেরোচ্ছে। দশ মিনিট অপেক্ষা করুন। পাতার এই রস পুরো বেরিয়ে যেতে দিন। অল্প মাত্রায় তেমন ক্ষতিকারক নয় ঠিকই, তবে এই রস তেতো এবং শরীরের ভেতরে গেলে অন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে ।
এই রসটা পুরোপুরি বেরিয়ে গেলে এ বার জেল বার করে নিতে হবে। পাতার আগা, ডগা ও পাশের দিকে ছুরি দিয়ে হাল্কা করে রুক্ষ জায়গাগুলো চেঁছে নিন। এ বারে মাছ যেমন চাকা চাকা করে কাটা হয় সেইভাবে কেটে নিন। এ বার একটি বড় চামচ দিয়ে জেলটা তুলে একটি পাত্রে রেখে দিন।
ব্যবহারের জন্য কীভাবে স্টোর করবেন অ্যালোভেরা জেল
ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য দু’রকম ভাবে এই জেল রাখতে পারেন। জেলটিকে একটি এয়ারটাইট কন্টেনারে ফ্রিজে রেখে দিন। অন্তত দু’সপ্তাহ এই ভাবে ফ্রিজে রাখতে পারবেন। এ ছাড়া বরফের ট্রেতে জেল রেখে ভাল করে প্লাস্টিক ব্যাগ বা ব্যবহারযোগ্য পাত্রের মুখ আটকে রেখে দিন। এই ভাবে আপনি অন্তত এক বছর এই জেল রাখতে পারবেন। এই জেল আপনি ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যায়, বাড়িতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির সময়, খুশকি কমাতে এমনকি মশার কামড়ের থেকে বাঁচতে ব্যবহার করতে পারবেন৷
আরও পড়ুন: রূপচর্চার এই তিনটি উপকরণ বাড়িতে ‘মাস্ট’