আপনার বয়স ৬০ হোক কিংবা ৭০-৮০। সব বয়সেই শরীর সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই ধাপগুলিতে শরীরের পুষ্টির চাহিদা ও পরিমাণ সব কিছুতেই একটা বদল ঘটে। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে পুষ্টির প্রয়োজন। তাই বয়স্কদের জন্য রইল বেশ কিছু জরুরি টিপস। দেখে নিন আপনার খাবারে এই প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি থাকছে কি না।
১. বৃদ্ধ বয়সে শরীরে প্রচুর তরল খাবার প্রয়োজন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেষ্টার অনুভূতি অনেকটা কমে আসে। কিন্তু শরীরে জলের পরিমাণ ঠিক রাখতে প্রয়োজন অধিক পরিমাণ জল৷জল খেতে না-চাইলে লো ফ্যাট বা ফ্যাট ফ্রি দুধ খান। বাড়িতে তৈরি ফলের রস খেতে পারেন। পাশাপাশি যে-সব পানীয়তে অধিক মাত্রায় নুন বা চিনি রয়েছে তা এড়িয়ে চলুন।
২. বাড়ির সকলের সঙ্গে বসে খাবার খান
পরিবারের লোকজনের সঙ্গে খেতে বসলে ভাল হয়। যদিও কর্মব্যস্ত জীবনে বাড়ির ছোটদের অনেক সময় পাবেন না। সেক্ষেত্রে মাঝে-মাঝে বন্ধুদের সঙ্গে লাঞ্চ বা ডিনার করতে পারেন। তবে করোনাকালে মেলামেশার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।
৩. খাদ্যতালিকায় রাখুন পুষ্টিকর খাবার
আপনার খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার থাকছে কি না, যাচাই করে নিন। কীভাবে করবেন? খুব ভাল হয় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাদ্যতালিকা তৈরি করলে। রান্নায় হাতেখড়ি এখনও না-হয়ে থাকলে, শিখে নিন। দেখবেন আপনার পুষ্টিকর খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
৪. খাবারের পরিমাণ হোক শরীরের অবস্থা বুঝে
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পায়। তাই শরীরের প্রয়োজন ও ক্ষমতা বুঝে খাবার খান। বাড়ির বাইরে বেশি সময় কাটাতে হলে খাবার প্যাক করে নিন। রেস্টুরেন্টে খেলে খানিকটা প্যাক করে নিন। দুটো মিলের মধ্যে বেশি গ্যাপ রাখবেন না।
৫. সব ধরনের তরিতরকারি খান
সুস্থ শরীর বজায় রাখার জন্য আমরা যা কিছু খাই তা-ই খাদ্য। যদি শারীরিক কিছু সমস্যার জন্য চিকিৎসক কিছু খাবার মানা করে থাকেন সেটা বাদে অন্যান্য শাকসবজি বেশি পরিমাণে খান। বার্ধক্যে যকৃৎ, কিডনি, চোখের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে লো ক্যালোরি এবং ফাইবার যুক্ত খাবার খুবই উপকারী। তরিতরকারিতে এই দুটি বিষয়ই রয়েছে।
৬. দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা প্রয়োজন
অনেকর দাঁতের সমস্যা হয়৷ তাঁরা শক্ত খাবার খেতে না পারলে তরিতরকারি বেশি সেদ্ধ করে বা সুপ বানিয়ে খেতে পারেন।
৭. খাবারে স্বাদ আনতে স্পাইস ও হার্বস ব্যবহার করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই কিছুটা কমে আসে স্বাদ বা গন্ধের অনুভব। সেক্ষেত্রে স্পাইস বা হার্বস খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন। একঘেয়েমি খাবারের হাত থেকেও মুক্তি পাবেন।
৮. খাদ্য সুরক্ষায় নজর দিন
খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলুন। কাঁচা বা আধ কাঁচা খাবারের থেকে সতর্ক থাকুন। স্প্রাউট, ডিম, মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মাংস বা পোলট্রি জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
৯. বাজারে থেকে খাদ্য সামগ্রী কেনার সময় লেবেল পড়ুন
খাবার কেনার সময় নিউট্রিশন লেবেল দেখে, পড়ে বুঝে তারপরই কিনুন। প্রয়োজনের এই ক্ষেত্রেও আপনার পারিবারিক চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
১০. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট কখনই নয়
খাবারের মাধ্যমে পুষ্টি শরীরে যাওয়াই শ্রেয়। তবে কোনও কারণে খেতে সমস্যা হলে বা সামসয়িক ভাবে অরুচি দেখা দিলে ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনওমতেই এগুলো খাবেন না।