মা-ঠাকুমাদের সময় সৌন্দর্যের এত সরঞ্জাম বা সামগ্রী কোনওটাই ছিল না। কিন্তু এঁদের ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ছিল রীতিমতো ঈর্ষণীয়। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রূপচর্চার জন্য তাঁরা বাজারচলতি সামগ্রীর বদলে ঘরোয়া উপকরণগুলিকেই বেছে নিতেন। এখন ‘রেডি টু ইউজের’ যুগে ল্যাবে তৈরি বাজার চলতি প্রোডাক্টগুলোর উপর নির্ভরশীল অধিকাংশ মানুষ। রূপচর্চার এই সামগ্রীর ক্ষতিকারক রাসায়নিকের বারবার প্রয়োগের ফলে স্বাস্থ্যক্ষয় হচ্ছে ত্বক ও চুলের। তাই ইদানীং ফের একবার আয়ুর্বেদিক বা প্রাকৃতিক উপকরণের দিকে ঝুঁকেছেন অনেকেই।
১ দুধ- ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ দুধ। দুধের গুণের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। তা সে হবু কনের মুখের জেল্লা ফেরাতেই হোক বা শিশুর ত্বকের দেখাশোনা। ত্বকে আর্দ্রতা এনে তরতাজা করে তুলতে দুধের জুড়ি মেলা ভার।
দিনে একবার অন্তত দুধকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। এর ফলে ধুলোবালির জন্য বা রাসায়নিকের প্রয়োগে রুক্ষ ত্বক হারানো আর্দ্রতা ও জেল্লা ফিরে পাবে। দুধে ল্যাকটিক অ্যাসিড পাওয়া যায়। ত্বকে জ্বালা বা চুলকানির মতো সমস্যা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী এই পদার্থ।
২. নিম – আযুর্বেদিক রূপচর্চার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ নিম। একাধিক রোগ নিরাময় উপাদানে পরিপূর্ণ নিম রোমকূপে জমে থাকা ময়লা ও জীবাণু নষ্ট করে মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া নিমের এই উপাদানগুলি ত্বকের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে কোষের মেরামতি করে স্বাস্থ্য বজায় রাখে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় ভুগছেব যাঁরা, তাঁরা নিমের তৈরি ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহার করে আরাম পাবেন। ত্বক ও চুল দুই ক্ষেত্রেই সমান উপকারী নিম।
৩. ভৃঙ্গরাজ তেল- চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে এই তেল হল আয়ুর্বেদ পরিচর্যার সেরা উপকরণ। লম্বা চুল, ঘন চুল বা চুলের চাকচিক্য ফেরাতে এর জুড়ি মেলা ভার।
শুধু যে স্বাস্থ্য তা নয়, চুলের অকালপক্বতা থেকেও রক্ষা করতে সক্ষম এই তেল। স্ক্যাল্পের নানা সমস্য যেমন, খুশকি নিরাময়ের ক্ষেত্রেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই তেলের।