কলকাতা: গরমের ছুটি হোক বা পুজোর ছুটি অথবা বছরে দু-একদিনের ছুটি পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন ভ্রমণ প্রিয় বাঙালিরা। কখনও এই ভ্রমণের ডেস্টিনেশন(Destination) থাকে পাহাড়, কখনও বা সমুদ্র কিংবা কোনও জঙ্গল। যদিও অনেকে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে বেশি ভালোবাসেন। তবে পাহাড়প্রেমীদের প্রথম পছন্দ দার্জিলিং (Darjeeling)। অনেকে আবার হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড কিংবা কাশ্মীরে যান। তবে, যাঁরা পাহাড় ভালোবাসেন তাঁরা অরুণাচল প্রদেশ (Arunchal Pradesh) যেতে পারেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে একটুও পিছিয়ে নেই উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্য। আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে ‘জিরো ভ্যালি’তে (Ziro Valley)। ঘন পাইনের জঙ্গল, বাঁশ বাগানের ঘেরা পাহাড়ি রাস্তা, ধাপে ধাপে ধানের খেত আর আদিবাসীদের জনজীবন নিয়ে ‘জিরো ভ্যালি’।
ইটানগর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘জিরো ভ্যালি’। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এই অঞ্চলটি জনপ্রিয় ‘জিরো মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’-এর জন্য। পাহাড়ের উপর সবুজের মাঝে আয়োজিত হয় এই সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। স্থানীয় ব্যান্ডই বেশি অংশগ্রহণ করে এই অনুষ্ঠানে। থাকেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গীতশিল্পীরাও। টানা ৪ দিন ধরে চলে গান, হইহুলোড়। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষে এই জিরো মিউজিক ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে জিরো ভ্যালিতে। ঘন পাইনের জঙ্গল, বাঁশ বাগানের ঘেরা পাহাড়ি রাস্তা, ধাপে ধাপে ধানের খেত আর আদিবাসীদের জনজীবন নিয়ে ‘জিরো ভ্যালি’।
পুরো উপত্যকা জুড়ে অজস্র ছোট বড় পাহাড় রয়েছে। সবুজ গালিচার মতো সাজানো গোটা উপত্যকা। রয়েছে পাইনের জঙ্গলও। রডোডেনড্রন, পাইন, বাঁশ, ফার্ন, ফারের সমাহার। এই উপত্যকায় রয়েছে ট্যালি ভ্যালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। প্রায় ৩৩৭ স্কোয়ার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এখানে ৩০০টি প্রজাতির পাখি এবং ১৭০ প্রজাতির প্রজাপতির বাস। এই উপত্যকার বাসিন্দারা হলেন আদিবাসী আপাতানি সম্প্রদায়ের মানুষ। মূল জীবিকা চাষবাস। এঁরা আজও ঐতিহ্য মেনে মুখে উল্কি আঁকেন। এখানে গ্রামের পর গ্রাম পাহাড়ের ধাপে-ধাপে চাষজমি দেখা মেলে। এছাড়াও এখানে মাছ চাষও করা হয়। জিরো উপত্যকার গ্রামগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি আপনি মেঘনা কেভ মন্দির, কিলে পাখো, জিরো পুতো ইত্যাদি জায়গায় যেতে পারেন।
আরও পড়ুন:এক নজরে দেখে নিন এই বছর দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট
জিরো মিউজিক ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে বেশিরভাগ মানুষ সেপ্টেম্বরেই ভিড় করেন এই উপত্যকায়। তবে, এপ্রিল থেকে জুন মাস হল জিরো ঘুরে দেখার সেরা সময়। বিমানপথে জিরো ভ্যালি পৌঁছাতে গেলে আপনাকে নামতে হবে তেজপুর বিমানবন্দরে। তেজপুর থেকে জিরো প্রায় ২৬৬ কিলোমিটারের রাস্তা। আর জিরোর সবচেয়ে কাছের রেলস্টেশন হল নাহারালাগুন। আবার সড়কপথে গুয়াহাটি থেকেও জিরো পৌঁছাতে পারেন। প্রায় ৪৭০ কিলোমিটারের পথ। জাতীয় সড়ক পথ ২৭ এবং ১৫ ধরে গেলে সময় লাগবে প্রায় ৭ ঘণ্টা।