কলকাতা: আজ বুধবার সন্ধে ৬টা ৪ মিনিটে চাঁদের মাটিতে পা রাখা কথা চন্দ্রযান ৩-এর (Chandrayaan-3) ল্যান্ডার বিক্রমের (Vikram Lander)। দেশ-বিদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) অভিযানের সাফল্য কামনায় চলছে প্রার্থনা। ইসরোর তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, অবতরণে গোলযোগ হলে ২৭ অগাস্ট আবার চেষ্টা করা হবে। তবে সবার আশা, আজই সাফল্য অর্জন করবে চন্দ্রযান ৩ মিশন।
একটা প্রশ্ন মাথায় আসতেই পারে, তা হল কেন বছরের এতগুলো দিন থাকতে ২৩ অগাস্টকেই কেন বেছে নিল ইসরো। এহেন চন্দ্রাভিযানের জন্য নিশ্চয়ই পঞ্জিকা দেখে তিথি-নক্ষত্র ঠিক করা হয়নি। চন্দ্রযান মিশনের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে একান্ত বৈজ্ঞানিক কারণেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চাঁদের দিন-রাতের হিসেব।
আরও পড়ুন: বিপদ সত্ত্বেও চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যাওয়ার এই নতুন ‘ট্রেন্ড’ কেন? জেনে নিন রহস্য
চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের মাটি স্পর্শ করার পর তা থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বেরিয়ে আসবে রোভার ‘প্রজ্ঞান’ (Rover Pragyan)। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের দক্ষিণ মেরু চত্বর ঘুরে বেড়াবে সে। চাঁদের মাটিতে জল আছে কি না, খনিজ সম্পদ কী আছে সেসব অন্বেষণ করাই প্রজ্ঞানের কাজ। এই কাজ করতে সূর্যের আলো থেকে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে কারণ প্রজ্ঞান সৌরশক্তিচালিত রোভার।
এদিকে চাঁদের দিন-রাত্রির হিসেব পৃথিবীর থেকে। পৃথিবীর হিসেবে ২৮ দিনে এক চান্দ্রমাস। পৃথিবীর মতো দিনের অর্ধেক দিন এবং অর্ধেক রাত চাঁদে হয় না। টানা ১৪ দিন দিনের আলো আর তারপর টানা ১৪ দিন রাত। প্রজ্ঞানকে চলে ফিরে বেড়াতে হলে অবশ্যই দিনের সময় আসতে হবে। সেটাই হচ্ছে। ২২ অগাস্ট চাঁদের টানা ১৪ দিনের রাত শেষ হয়েছে। ইসরোর ল্যান্ডার এবং রোভার যখন চাঁদমামার পিঠে চড়বে তখন একেবারে দিবালোক, টানা ১৪ দিনের জন্য।