নয়াদিল্লি: অশান্ত মণিপুর ইস্যুতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি দাবিতে সংসদ যখন উত্তাল, তখন বিরোধী দলগুলির ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স বা ইন্ডিয়ার তরফে কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। পাশাপাশি কেসিআরের দল বিআরএসও পৃথক আরেকটি অনাস্থা এনেছে বুধবারই।
অনাস্থা প্রস্তাব কী?
অনাস্থা প্রস্তাব হল একটি সংসদীয় প্রক্রিয়া। যাতে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং যোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। যদি অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়, তাহলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।
কে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে?
লোকসভার যে কোনও সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব আনার অধিকারী। তবে প্রস্তাবের সপক্ষে নিম্নকক্ষের অন্তত ৫০ জনের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: Parliament Monsoon Session | লোকসভায় ২টি পৃথক অনাস্থা প্রস্তাব কংগ্রেস, বিআরএসের
অনাস্থা প্রস্তাব কীভাবে আনা হয়?
অনাস্থা প্রস্তাবটি লিখিত হতে হয়। যাঁরা সমর্থক তাঁদের স্বাক্ষর থাকতে হবে। অধিবেশন চলাকালীন যে কোনও দিন স্পিকারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিধি।
অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর কী হয়?
অনাস্থা প্রস্তাব পেশের পর স্পিকার ঠিক করেন প্রস্তাবের উপর আলোচনা এবং ভোটাভুটি কবে হবে। যদি প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে দিন এবং সময় নির্বাচন করার বিষয়টি পুরোপুরি স্পিকারের এক্তিয়ারে। স্পিকার আলোচনার সময় ঠিক করতে পারেন লোকসভার নির্দিষ্ট বিধির উপর নির্ভর করে।
অনাস্থার উপর বিতর্ক কী? ভোটাভুটিই বা কী?
লোকসভায় অনাস্থার উপর আলোচনাকেই বিতর্ক বলে। এতে সরকার ও বিরোধী পক্ষের নির্দিষ্ট বক্তারা পক্ষে ও বিপক্ষে বলেন। বিতর্কের শেষে লোকসভায় অনাস্থার উপর ভোটাভুটি হয়। অনাস্থা পাশ হলে সরকারকে ইস্তফা দিতে হয়, না হলে সরকার টিকে যাবে।
এ পর্যন্ত কতগুলি অনাস্থা প্রস্তাব এসেছে লোকসভায়?
স্বাধীনতার পর থেকে মোট ২৭টি অনাস্থা প্রস্তাব এসেছে লোকসভায়। প্রথম অনাস্থাটি এসেছিল ১৯৬৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে। এরপর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি মোট ১৫টি অনাস্থা এসেছিল। ৩টি করে অনাস্থা এসেছিল লালবাহাদুর শাস্ত্রী এবং নরসিমা রাওয়ের বিরুদ্ধে। ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে বিজেপির অটলবিহারী বাজপেয়ি মন্ত্রিসভার পতন হয় অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার ফলে। সেবার বাজপেয়ি ২৭০-২৬৯ ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদি সরকারও এর আগে ২০১৮ সালে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়েছিল।