ধনকুবের ব্যবসায়ী এলন মাস্কের (Elon Musk) টুইটার অধিগ্রহণ (Twitter Acquisition) নিয়ে সমালোচনা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি (US President) জো বাইডেন (Joe Biden)। মার্কিন রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়া মিথ্যা ছড়ানোর দায়ী। কোনও রকম রাখঢাক না করেই বাইডেন বলেছেন, “আমরা সবাই এখন কী নিয়ে চিন্তিত? এলন মাস্ক এমন একটা জিনিস কিনেছেন, যা সারা বিশ্বে মিথ্যে পাঠায় আর ছড়ায়।” গত শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিকাগোতে একটি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। সেখানেই তিনি এই মন্তব্য করেন। অর্থদাতাদের (Donor) সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ৮ নভেম্বর মার্কিন মুলুকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে মধ্যবর্তী (Midterm) নির্বাচন রয়েছে, তাতে মাস্কের টুইটারের প্রভাব পড়তে পারে।
মাইক্রো-ব্লগিং ওয়েবসাইট টুইটারের মালিকানা হস্তান্তর এবং সংস্থায় বর্তমান বদলের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। বাইডেন আরও বলেছেন, “ওখানে আর কোনও এডিটর নেই। একটাও এডিটর নেই। আমরা কিভাবে প্রত্যাশা করতে পারি, বাচ্চারা বুঝতে সক্ষম হবে যে কী কী ঝুঁকিতে রয়েছে?”
আরও পড়ুন: Indian First Voter: ১০৬ বছরে প্রয়াত দেশের প্রথম ভোটার শ্যামশরণ নেগী, শোক প্রকাশ নির্বাচন কমিশনের
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এলন মাস্ক ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে টুইটার কিনেছেন। মাস্ক বরাবরই বাক-স্বাধীনতা (Free-Speech) নিয়ে সওয়াল করে এসেছেন। টুইটার কেনার পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থার সকল বোর্ড মেম্বারদের ছাঁটাই করে দিয়েছেন তিনি এবং তার পরপরই তিনি জানিয়ে দেন টুইটারের কর্মী সংখ্যা ৭৫০০ থেকে একধাক্কায় নামিয়ে আনবেন তিনি। টুইটারে কন্টেন্ট মডারেশন নিয়ে মাস্ক যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, তা নিয়ে বেজায় চিন্তিত ফাইজার ইনকর্পোরেট (Pfizer Inc.) এবং জেনারেল মিলস ইনকর্পোরেট (General Mills Inc.)-এর মতো বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থারা। মাস্কের ঘোষণার পরই তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত তাঁরা টুইটারে বিজ্ঞাপন খরচ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখছে। অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলিও (Civil rights groups) বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলির উপর চাপ বাড়াচ্ছে, মাস্ক যাতে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটিকে ঘৃণামূলক মন্তব্য বা বিভ্রান্তি (Hate Speech or Disinformation) ছড়ানোর জায়গা হতে না দেন।
এদিকে, মাস্ক নিজেও শুক্রবার স্বীকার করে নিয়েছেন টুইটারের কন্টেন্ট মডারেশন নিয়ে একটা ভয় ছড়িয়েছে, তার জেরে আয় কমেছে সংস্থার। এ প্রসঙ্গে তিনি ধন্দ কাটাতে এটাও জানিয়ে দিয়েছে, কন্টেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রে কোনও কিছুই বদলায়নি।