মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্ক (Elon Musk) টুইটারের মালিকানা হাতে নেওয়ার পর থেকে দোলাচলে সংস্থার কর্মচারীরা। কার চাকরি থাকবে, আর কার চাকরি থাকবে না, সে নিয়ে ধন্দে রয়েছেন টুইটারের কর্মীরা। গত মাসের ২৭ তারিখে টুইটার (Twitter) কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেন টেসলা (Tesla) কর্ণধার। তারপর থেকে আটদিন কেটেছে, এরমধ্যে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে এই মাইক্রো-ব্লগিং ওয়েবসাইটের (Micro-Blogging Website) পরিচালন ব্যবস্থায় (Management System)। সংস্থার সিইও (CEO) থেকে শুরু করে চিফ লিগ্যাল অফিসার (Chief Legal Officer )-কে পর্যন্ত ছাঁটাই করেছেন তিনি। বোর্ড মেম্বারদের ছাঁটাই করার পর, মাস্ক নিজেই সমস্ত দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছেন। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার টুইটার কর্ণধার পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, শুক্রবার মেইল মারফৎ টুইটারের সমস্ত কর্মচারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে কে কে ছাঁটাই হচ্ছেন, কোন কোন অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছে এবং কোথায় কোন কোন কর্মীর প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বৃপস্পতিবার (৩ নভেম্বর) টুইটারের সমস্ত কর্মচারীর কাছে মেইল এসেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৯টার মধ্যে (প্যাসিফিক টাইম) সবকিছু জানতে পেরে যাবেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: Target Was Only Imran: ইমরান খানকেই মারতে গুলি করা হয়, জেরায় দাবি ধৃতের
কর্মীদের করা মেইলে লেখা রয়েছে, “টুইটারকে স্বাস্থ্যকর পথে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় আমরা কঠিন প্রক্রিয়ায় হাঁটতে চলেছি, শুক্রবার আমাদের গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স (Global Workforce) কমানো হবে।” এটাও বলা হয়েছে, প্রতিটি কর্মীর পাশাপাশি টুইটার সিস্টেম (Twitter System) ও কাস্টোমার ডেটা (Customer Data)-র নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে কিছু অফিস বন্ধ করা হবে এবং ব্যাজ অ্যাক্সেস (Badge Access) কেড়ে নেওয়া হবে। টুইটার তরফে আরও বলা হয়েছে, যে কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে না, তাঁদেরকে অফিসিয়াল ইমেইল মারফৎ জানিয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে খবর, টুইটারের অনেক কর্মীই অভিযোগ করছেন, কোম্পানির আইটি সিস্টেমের অ্যাক্সেস ইতিমধ্যেই ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সম্ভবত তাঁদেরকে আগাম বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাঁরা ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন।
টুইটার তরফে এবিষয়ে অবশ্য কোনও কিছু জানানো হয়নি প্রাথমিকভাবে। শুধু জানা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি টুইটারকে খোলনলচে বদলে ফেলতে চান এবং বিপুল পরিমাণ খরচ কমানোর জন্যই তিনি কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছেন। মাস্ক টুইটার টিমকে নির্দেশ দিয়েছেন, টুইটারকে অন্তত বছরে একশো কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় করতে হবে পরিকাঠামো খাতে ব্যয়ের উপর লাগাম টেনে।