নয়াদিল্লি: রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে (Panchayat Election 2023 ) মনোনয়নপত্র পেশ শুরু হয়ে গিয়েছে শুক্রবার। হাতে আর মাত্র পাঁচদিন। এই আবহে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari ) দিল্লিতে বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে। সূত্র্রের খবর, ভোট যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে করানো যায়, মূলত সে ব্যাপারে কথা বলতেই শুভেন্দু দিল্লি উড়ে গিয়েছেন। বিরোধী দলনেতার দিল্লি সফর নিয়ে অবশ্য বঙ্গ বিজেপির কাছে কোনও খবর নেই। দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য কলকাতাতেই রয়েছেন।
পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার দুদিন পরেও বিজেপির রাজ্য কমিটির সাংগঠনিক বৈঠক কবে হবে, তা অনিশ্চিত। মনোনয়নের প্রথম দিন কেটে গিয়েছে। শুক্রবার বিজেপির খুব বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র পেশ করতে পারেননি। দলের এক নেতা বলেন, এখনও প্রার্থী তালিকাই চূড়ান্ত হয়নি। এই পাঁচদিনের মধ্যে তিন স্তরের প্রার্থীর নাম ঠিক করে মনোনয়নপত্র পেশ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে।
এদিকে বিজেপি এবং কংগ্রেস মনোনয়নের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের আবেদন, ছয়দিনে সব মিলিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে মনোনয়নপত্র পেশ করার জন্য। এই অতি অল্প সময়ে কী করে তা পেশ করা যাবে, প্রশ্ন তোলা হয়েছে মামলার আবেদনে। আগামী সোমবার মামলার শুনানি হওয়ার কথা। শুক্রবার আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মনোনয়নের সময়সীমা বাড়ানোর দরকার। না হলে ভোট পিছিয়ে দিতে হবে। বিরোধীরা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করারও দাবি জানিয়েছে মামলার আবেদনে। আদালত বলেছে, এ ব্যাপারে কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদিও এদিনই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা জানিয়ে দিয়েছেন, পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দরকার নেই। রাজ্য পুলিশই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন: Navjot Singh Sidhu | নভজ্যোত সিং সিধুর স্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি
প্রসঙ্গত, গতকাল পঞ্চায়েত ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু টুইটে মন্তব্য করেন, বাংলায় গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটানো হল। কোনও সর্বদলীয় বৈঠক না ডেকে কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করে দিল। নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা এবং শাসকদলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেন, কমিশনের আইনে কোথাও সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে ভোটের দিন ঘোষণা করার কথা বলা নেই। বিরোধীরা বলেন, ভোটের দিন ঘোষণার আগে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকাই রীতি। তা মানা হয়নি।
শুভেন্দু বলেন, ভোটে যদি প্রাণহানি হয়, তার দায় নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নির্বাচন কমিশনারকে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান এবং রাজ্য বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই রাজীব সিনহা ভোটের দিন ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তো ভোটের ফলও প্রকাশ করে দিতে পারতেন।