Placeholder canvas
কলকাতা শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ |
K:T:V Clock
Fourth Pillar: সুপ্রিম আদালতের সুপ্রিম রায় 
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক Published By:  কৃশানু ঘোষ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০২৩, ১০:৩০:০০ পিএম
  • / ২০৯ বার খবরটি পড়া হয়েছে
  • কৃশানু ঘোষ

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। কদিন ধরে আমরা ক্রমাগত বলেই চলেছি আরএসএস–বিজেপি নিয়ম করে, এক বিশাল পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেই একে একে আমাদের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করছে, তাদেরকে এক মধ্যযুগের অন্ধকারে ঠেলে দেবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম আছে, প্রসারভারতী, তাকে খবর জোগাত ইউএনআই, পিটিআই, ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া, প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া। দুটো সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু তাদেরকে বাতিল করে আনা হল হিন্দুস্থান সমাচারকে। এক আরএসএস অ্যাকটিভিস্ট-এর হাতে জন্ম নেওয়া হিন্দুস্থান সমাচার পেল খবর দেবার বরাত। ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন এখন প্রায় পুরোটাই আরএসএস–বিজেপির দখলে, রোজ সিলেবাসে ঢুকছে নতুন নতুন পাঠ্যসূচি, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে যারা তাদের বেদ পড়তে হবে গোছের সার্কুলার আসছে। বিশ্বজুড়ে ডাক্তারি পাস করার পর হিপোক্রিটাস ওথ বা হিপোক্রিটাস প্রতিজ্ঞা নিতে হয়, ভারতে চালু হল চরক প্রতিজ্ঞা। কোনও সন্দেহ নেই যে চরক চিকিৎসা শাস্ত্রে এক উল্লেখযোগ্য নাম, কিন্তু আধুনিক অ্যালোপাথি চিকিৎসায় তাঁর ভূমিকা কোথায়? কিন্তু আরএসএস-বিজেপির হিন্দু ন্যাশনালিজম এজেন্ডাতে কেবল চরক আছে। শিশুপুষ্টি আমাদের দেশে এক বিরাট সমস্যা, কিছুদিন আগেও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ডিম খাওয়ানোর কথা বলা হত, আপনারাও দেখেছেন সেই ডিমের বিজ্ঞাপন, অন্ডেকা ফান্ডা। কিন্তু আপাতত ডিম বন্ধ, কেন? নিরামিষ খেলে স্বাস্থ্য ভাল হয়, হয় তো, প্রধানমন্ত্রী তো নিরামিষই খান, কিন্তু সেই নিরামিষে মাশরুম থাকে, ছানা, পনির থাকে, ডাল দুধ দই থাকে। দেশের অগণিত মানুষের তেমন ভাগ্য কোথায়? 

ডিম জুটত, এখন বন্ধ, ইউপি, মধ্যপ্রদেশ ভুগছে ম্যাল নিউট্রিশনে। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান দখল নিয়েছে, নিচ্ছে আরএসএস–বিজেপি, যারা বিশ্বাস করে গণেশের মাথায় হাতির মাথা বসানো হল এক প্লাস্টিক সার্জারি, রাবণ বা নারদ প্লেনে চড়ে ঘোরাফেরা করতেন। পুরাণ আর ইতিহাসে ফারাক জ্ঞানটুকু যাদের নেই তাঁরা দেশ চালাচ্ছেন। মনেই হচ্ছিল আমাদের যে বিচারব্যবস্থাও বুঝি চলেই গেছে এনাদের দখলে, কিন্তু আমাদের আশ্বস্ত করে বৃহস্পতিবারে নির্বাচনের ফলাফল যখন আসছিল, তখন সুপ্রিম কোর্টের দুটো রায় আমাদের হাতে এল। দুটোই ঐতিহাসিক। প্রথমটা হল আদানি শেয়ার, শেয়ার পতন ইত্যাদি নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট সেবিকে সরাসরি নির্দেশ দিল এক কমিটি তৈরি করে এই পতনের পেছনের কারণ খুঁজে বার করতে। জানুয়ারি মাসে হিন্ডেনবার্গ জানিয়েছিল আদানিদের শেয়ারের দাম আসলে যা দেখানো হয়েছে, তারচেয়ে ৮৫ শতাংশ কম। বলার পর থেকে এখন পর্যন্ত আদানিদের শেয়ার ৬৫ শতাংশ মতন পড়েছে। তার মানে হিন্ডেনবার্গের বক্তব্য খুব ভুল কিছু নয়, এবং এর ফলে ছোট ইনভেস্টরদের বিরাট ক্ষতি হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে পিছনের কারণগুলোকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিল। 

আরও পড়ুন: Fourth Pillar: তিন রাজ্যের নির্বাচন আর চার রাজ্যের উপনির্বাচন কী জানাল?  

এরপরের রায় আরও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন কীভাবে কাজ করবে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ কীভাবে হবে, নির্বাচন কমিশনের খরচ খরচা কোথা থেকে আসবে, এসব নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায়। তাও আবার তখন যখন প্রত্যেক বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে তিতিবিরক্ত, গণতন্ত্রের সাধারণ নিয়মটুকুকেও উপেক্ষা করে এই মোদি জমানায় নির্বাচন কমিশন সত্যিই এক কাঠপুতুলের অভিনয় করে চলেছে, নড়ছে চড়ছে, কথা বলছে, নির্দেশ দিচ্ছে কিন্তু সবটাই অন্য কারোর নির্দেশে। অন্তত সেটা মনে করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। এ ফোর সাইজের ৮৯ পাতার এই রায়ের প্রত্যেকটা লাইন গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান সভার বিতর্ক থেকে সংবিধান সংশোধন, বহু মামলার রেফারেন্স নিয়ে এই রায় এই মুহূর্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ যখন সংবিধানকে বাইপাস করে শাহ-মোদি সরকার এক অঘোষিত জরুরি অবস্থা নামিয়ে এনেছে, মানুষের ওপরে। রায় দিতে গিয়ে নানান প্রসঙ্গ এসেছে, এসেছে সংবাদ মাধ্যমের প্রসঙ্গও। কীভাবে সংবাদমাধ্যম তার দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্ষমতার সামনে হাঁটু গেড়ে বসেছে, তার কথাও বলা হয়েছে। ৮৯ পাতার রায় শুরুই হয়েছে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা বলে, সেই কাঠামোর মধ্যে নির্বাচন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং তার প্রধান শর্ত এক স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচনী নজরদারি। এই রায়ের কপিতে লেখা আছে, It is clear that the founding fathers intended that the elections in the country must be under the superintendence, direction and control of an independent Body. আমাদের সংবিধান রচয়িতারা চেয়েছিলেন যাতে দেশের নির্বাচন এক স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের দেখরেখেই সম্পন্ন হয়। রায়ে বলা হচ্ছে, An unrelenting abuse of the electoral process over a period of time is the surest way to the grave of the democracy. Democracy can succeed only in so far as all stakeholders uncompromisingly work at it and the most important aspect of democracy is the very process, the electoral process, the purity of which alone will truly reflect the will of the people so that the fruits of democracy are truly reaped. নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে যদি পদে পদে বাধা দেওয়া হয় তাহলে গণতন্ত্রকে কবরে পাঠানো হবে। গণতন্ত্র তখনই কাজ করতে পারে যখন মানুষ নির্বাচনের অধিকার পায়। কেন বলছেন এই কথাগুলো? আর কেন এগুলো জরুরি? জরুরি কারণ নির্বাচন যদি ক্ষমতাসীন সরকারের নির্দেশেই হয় তাহলে তা আসলে সরকারে বসে থাকা দলকেই সাহায্য করবে। ধরুন এই বাংলায় ভোট হবে সাত দফায়, আর গুজরাতে ভোট হবে দু’ দফায়, কেন? দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী যাতে প্রত্যেক ফেজে উড়ে এসে প্রচার করতে পারে, সেই জন্য? দল ভাঙার পরে সেই দল ভাঙিয়েদের আদত নাম আর নির্বাচন চিহ্ন যাতে দেওয়া যায় তার জন্য? হাজারো অভিযোগ জমা অন্য কেউ নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, নির্বাচনের দিনে রাস্তায় রোড শো করছেন, নির্বাচনের দিনে টেলিভিশনে বক্তৃতা দিচ্ছেন, নির্বাচন কমিশন চোখ বুজে বসে আছে, কেন? কারণ সরকার নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করেছে। 

আরও পড়ুন: Fourth Pillar: বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে  

এর আগেও নির্বাচন কমিশন বা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল, এখন সেই অভিযোগ শোনারও কেউ নেই। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সরাসরি কন্ট্রোল করছে শাহ-মোদি সরকার। আর এই প্রেক্ষিতেই এই জাজমেন্ট ঐতিহাসিক। বিচারকরা সাফ জানালেন, “The Election Commissioners will be appointed by the President of India on the advice of a committee consisting of the Prime Minister, and leader of Opposition in Lok Sabha, or leader of largest opposition party in cases where there is not enough numerical strength for a leader of opposition, and the Chief Justice of India.” মানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনারদের নির্বাচিত করবেন এক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। সেই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা বা লোকসভায় সবচেয়ে বড় বিরোধী দলের নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি। এই বলেই ক্ষান্ত দেননি, এরপরে বলেছেন, This law will continue to hold good until a law is made by Parliament. The Court asks the government to make a necessary change with regard to funding of the Election Commission from the Consolidated Fund of India and the need for separate Secretariat. এই রায় ততদিন পর্যন্ত কার্যকরী থাকবে, যতদিন না এই বিষয়ে সরকার নতুন আইন তৈরি করছেন। এছাড়াও এমন স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দিয়ে কী হবে? যাদের প্রতিটা আধুলি খরচা করার আগে এই সরকারের কছে হাত পাততে হবে। সেটা মাথায় রেখেই বিচারকরা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের খরচ কনসলিডেটেড ফান্ড থেকেই হোক, আলাদা সেক্রেটারিয়েট তৈরি হোক। আসলে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে কালকেই এক ধোয়া তুলসিপাতা নির্বাচন কমিশন পেয়ে যাব আমরা তা নয় কিন্তু এই যে প্রতিদিন নির্বাচনী ব্যবস্থার গঙ্গাযাত্রার ব্যবস্থা যারা করাচ্ছে, তাদের থমকে দাঁড়াতেই হবে। বিচারকরা বলছেন, Rule of law is the very bedrock of a democratic form of governance. It simply means that men and their affairs are governed by pre-announced norms. It averts a democratic Government brought to power by the strength of the ballot betraying their trust and lapsing into a Government of caprice, nepotism and finally despotism. আইনের শাসনই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে। এক ঘোষিত সুনির্দিষ্ট আইন দিয়েই যদি শাসন চলে তাহলে শাসক অত্যাচারী হয়ে উঠতে পারে না। আইন নেই বলেই একজন শিরদাঁড়াহীন মানুষকে পদে বসিয়ে গোটা নির্বাচন পদ্ধতিকে কুক্ষিগত করার বিরুদ্ধেই এই ঐতিহাসিক রায়। স্বাগত এই রায়কে। আমরা মেঘ দেখে ভয় পাচ্ছিলাম, আর সেই সময়েই এক ফালি রোদ এসে পড়ল আমাদের চোখে মুখে গায়ে।       

 

পুরনো খবরের আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০ ১১ ১২
১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮ ১৯
২০ ২১ ২২ ২৩ ২৪ ২৫ ২৬
২৭ ২৮ ২৯ ৩০  
আর্কাইভ

এই মুহূর্তে

2020 Delhi Riots : বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের বিরুদ্ধে ফের তদন্তের নির্দেশ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
ঈদে রীনার সঙ্গে সেলফি কিরণের,এন্ট্রি নেই গৌরীর ! আমির কোথায়!
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
ঝুঁকিতে কলকাতা, ভূমিকম্পের তছনছ হতে পারে গোটা শহর!
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
টিকল না বিরোধীদের আপত্তি, বুধবারই সংসদে পেশ হবে ওয়াকফ বিল
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
গুজরাটে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ১৮, বাড়তে পারে সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
৮৯ বছর বয়সে ধর্মেন্দ্রর চোখে অস্ত্রোপচার সঙ্গে নেই নিজের কেউ !
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
আওরঙ্গজেবপুর হল শিবাজীনগর! ফের ১১ স্থানের নাম বদল বিজেপির
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
প্রয়াগরাজে বুলডোজ মামলা: সুপ্রিম ভর্ৎসনা, ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
দর্শক টানছে না ‘সিকন্দার’, ঈদের দিনে বুলেটপ্রুফ গ্লাসের ওপারে ভাইজান!
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
বিমসটেক বৈঠকে যোগ দিতে এবার ব্যাংকক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার রওনা
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
নদীতে হাঁটু সমান জল, হাত দিলে উঠে আসছে কার্তুজ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
“কথা না শুনলে শাস্তি পাবে,” রাশিয়াকে কেন একথা বললেন ট্রাম্প?
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
ঘিবলি আর্টে মজলেন অমিতাভ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
পাথরপ্রতিমা বিস্ফোরণ নিয়ে এবার কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
মা-মেয়েকে নিয়ে গল্প বলবে ‘পুরাতন’? প্রকাশ্যে ট্রেলার
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.
Developed By KolkataTV Team