নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে মমতার নির্বাচনী এজেন্ট ও তৃণমূলের দাপুটে নেতা শেখ সুফিয়ান (Sheikh Sufian) পঞ্চায়েত ভোট (Panchayat Election 2023) পরিচালনার কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। নন্দীগ্রামে রীতিমতো বিভক্ত তৃণমূল শিবির (Nandigram)। এক সময়ের জমি আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা তথা তৃণমূলের জেলা পরিষদের সহ সভাপতি সেক সুফিয়ানই এবার টিকিট পাচ্ছেন না। প্রাথী বাছাইয়ের আলোচনা থেকে বাদ পড়েছেন আদি গোষ্ঠী। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সবকটি আসনেই নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা করছেন তৃণমূলেরই একটি গোষ্ঠী। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দাবি, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল করার পর এখন তাঁদের কোনঠাসা। তাই নন্দীগ্রামে তৃণমূলকে বাঁচাতেই দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী নামাচ্ছেন তাঁরা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামে (Nandigram) জমি আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মানুষ ছিলেন। কিন্তু গত বিধানসভায় হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম সিট থেকে মমতাকে জেতাতে ব্যর্থ হয়েছেন। থেকে গত বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে আদি তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে। সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মাছ ধরার ট্রলার ও জাহাজবাড়ি তৈরির জন্য ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের আদি নেতাদের সঙ্গে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে নব্য তৃণমূলীদের। তৃণমূলের যে ব্লক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে সুফিয়ানের অনুগামীদেরও রাখা হয়নি। ওই কমিটিতে নেই সুফিয়ান অনুগত প্রাক্তন ব্লক সভাপতি রঞ্জন দাসেরও।
আরও পড়ুূন: Panchayat Election 2023 | সায়ন্তিকার পাইলট গাড়ি হামলায় গ্রেফতার ১২ বিজেপি নেতা-কর্মী
তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কারা তা ঠিক করবেন দলের কর্মীরাই। এরপরই পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের ব্লক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শেখ সুফিয়ানের নাম নেই। এনিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতা। কমিটিতে তাঁকে না রাখা নিয়ে সুফিয়ান বলেন, নন্দীগ্রামে যখন তৃণমূল ছিল না তখন আমাদের প্রয়োজন ছিল। এই নন্দীগ্রামে যখন তৃণমূলের প্রদীপ নিভে গিয়েছিল তখন এই সুফিয়ান আন্দোলন করে তৃণমূল দলটাকে মাথা তুলে দাঁড় করিয়ে ছিলাম। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে ভূমি আন্দোলন হয় তখন আমাদের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি করেছিল দল। সেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আজকের বাংলায় বদল এসেছিল। দলের সহ-সভাপতির থাকার সুবাদে নন্দীগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। নন্দীগ্রামের মানুষ তা জানে আমি জমি আন্দোলনের সৈনিক। কেউ দলের বিরুদ্ধে গেলে তৃণমূল তাকে ক্ষমা করবে না। যারা আমার নাম নিয়ে দল বিরোধী কাজ করবেন তাঁদের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।