কলকাতা: রাজ্যপাল (Governor) সিভি আনন্দ বোসকে (C. V. Ananda Bose) এবার আইনি চিঠি পাঠালেন প্রায় এক ডজন প্রাক্তন উপাচার্য। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে রাজ্যপাল সম্প্রতি যেসব অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন, তা প্রত্যাহার করতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে কিংবা আইনি চিঠির জবাব না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন ওই প্রাক্তন উপাচার্যরা। চিঠিতে ৫০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা করার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে নবান্ন-রাজভবন সংঘাত এখন তুঙ্গে। তবে বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে কোনও বিতর্কে ঢুকতে চাননি। তিনি বলেন, এখন এসব নিয়ে কিছু বলছি না। ফিরে এসে বলব। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ছিল, আলোচনার মাধ্যমেও অনেক সমস্যার সমাধান হয়। রাজ্যপালও ওইদিন কোনও বিতর্কে যাননি। তিনি বিদেশ যাত্রার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁর গোপন চিঠিতে। রাজ্যপাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ফিরলে কথা হবে।
আরও পড়ুন:ঝালদার ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা পূর্ণিমা কান্দুর
গত দুদিন ধরে দুপক্ষই চুপ থাকলেও বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে ফের বাজার গরম করলেন প্রাক্তন উপাচার্যরা। চার পাতার দীর্ঘ আইনি চিঠি লিখে সরকার ঘনিষ্ঠ ওই শিক্ষাবিদরা রীতিমতো রাজ্যপালকে হুমকি দিয়েছেন। উপাচার্য নিয়োগের বিল নিয়ে সম্প্রতি রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। বুধবারই হাইকোর্ট সে ব্যাপারে রাজভবনের কাছে হলফনামা চেয়ে পাঠিয়েছে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার রাজ্যপাল আইনি নোটিস পেলেন প্রাক্তন উপাচার্যদের কাছ থেকে।
এদিন এডুকেশনিস্ট ফোরামের তরফে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপসারিত উপাচার্য ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, প্রতিদিন বাংলার শিক্ষাকে অপমান করা হচ্ছে। মাননীয় রাজ্যপাল রাতে একাধিক নীতিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাজ্যপাল বলেছেন, এবার আমিই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ করব। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, আমাদের পুনর্নিয়োগ না দেওয়ার মূল কারণ হিসাবে রাজ্যপাল বলেছেন, আমরা নাকি দুর্নীতিগ্রস্ত, ছাত্রী হেনস্থার সঙ্গে জড়িত, উপাচার্যের চেয়ারে বসে রাজনীতি করি। রাজ্যপাল এসব কথা বলার জন্য আমাদের অপমানিত হতে হচ্ছে। আশুতোষ আরও বলেন, রাজ্যপালের ওই বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। পুরুলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য দীপক কর বলেন, রাজ্যপালের বক্তব্যে আমরা মর্মাহত। আর এক অপসারিত দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যপালের মাথার গোলমাল হয়েছে মনে হচ্ছে। তাই তিনি কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না।