কলকাতা: পঞ্চায়েতের মনোনয়ন পর্ব থেকে গণনা পর্বেও রাজ্যবাসী সাক্ষী থেকেছে হিংসার। জেলায় জেলায় বোমা গুলি, রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে ছিল। ভাঙড়, ক্যানিং, দিনহাটা, চোপড়া সহ বেশকিছু এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। ভোটে অশান্তির দায় বিরোধীদের ঘাড়েই পাচালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মমতা বলেন, ৭০০-র বেশি এলাকার পুনর্নির্বাচন হয়েছে। এমনকী আমাদের এলাকাতেও আমরা পুনর্নির্বাচন (Reelection) করিয়ে দিয়েছি। কারণ, সেটা ভুল ছিল বলে। একমাত্র ভাঙড় ছাড়া গণনার দিন সেই কোথাও কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন মুখ্যমন্ত্রী ভাঙড়ের অশান্তি (Bhangar Violence) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, ভাঙড়ে গণ্ডগোল হল কীভাবে কাল রাতে? কেন্দ্রীয় বাহিনী তো ছিল। কেন অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপারকে গুলি করা হল? তৃণমূল জিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিডিওকে দিয়ে অন্যের জয় লিখিয়ে নেওয়া হয়। আমি তাও চুপ ছিলাম। শুধুমাকত্র রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য। স্কুলের বাইরে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিল। দুষ্কৃতীদের জড়ো করেছিল। তারা গুলি-বোমা ছুঁড়েছে। পুলিশও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল সেখানে। তারপরেও কেন অশান্তি ছড়াল প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গ্রাম বাংলার ক্ষমতা যে মমতার হাতেই থাকছে সেটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছেদিনের আলোর মতো। দিকে দিকে উড়ছে সবুজ আবির। কিন্তু পঞ্চায়েতের দিন ঘোণার পর থেকে গণনার দিনেও রাজ্যের একাধিক জেলা অশান্ত হয়ে উঠেছিল। শনিবার ভোটের দিন রাজনৈতিক হিংসায় রাজ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া একাধিক বুথে ভোট হয়নি। কোথাও ব্যালটচ লুট, তো কোথাও ছাপ্পা, বা বোমাবজি গুলির দাপটে মাঝপথেই ভোট বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই রাজ্যের নির্বাতন কমিশন পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করেন। পুনর্নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ৭১ হাজার বুথে ভোট হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে বড়জোড় ৬০ বুথে। যারা ব্যালটে জল ঢেলে দিয়েছে, তারা কেন গ্রেফতার হবে না? কেন জেলে যাবে না? প্রশ্ন তুললেন মমতা।
পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও উত্তর ২৪ পরগনায় কোনও ঘটনা ঘটেনি। কোচবিহারের শীতলকুচিতে একটি ঘটনা ঘটেছে। উত্তর দিনাজপুরে একটি ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে আমাদের একজন নেতাকে খুন করে দিয়েছে। বাসন্তীতে একটি খুন হয়েছে। ভাঙড়ের ঘটনা আপনাদের সকলের জানা। ঘটনা আসলে ঘটেছে দুটি জেলায় মুর্শিদাবাদ ও মালদায়। যে জায়গাগুলিতে ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি আজ থেকে নয় গত ২৫-৩০ বছর ধরে ওই জায়গাগুলিতেই অশান্তি হয়। আর তার জন্য সব জেলাকে বদনাম করা হচ্ছে। এই হিংসার কথা বারবার ছড়িয়ে সারা দেশের কাছে বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। কারা অশান্তি ছড়াচ্ছে, সবাই জানে। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন-এর আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যারাই খুন করে থাকুক তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আমি দুঃখিত কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনায় কয়েকজন মারা গিয়েছেন।
তিনি বলেন, কো-অর্ডিনেশন কমিটির অনেকে আছে এখানে। যাঁরা ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করেননি।অনেক জায়গায় আমাদের অনেক ব্যালট পেপার বাতিল হয়েছে। দোষটা কার? তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন? তিনি আরও বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার, কাউন্টিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দরকার ছিল। এজন্য কোথাও তৃণমূলের ৫০টা কোথাও ১০০টা ভোট বাতিল হয়েছে।