কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটের দিন পিছনোর প্রস্তাব কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিভগনমন (Calcutta High Court Chief Justice TS Shivaganaman)। পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীদের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করানোর কথাও বললেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি বলেন, হনুমান জয়ন্তীর সময় আমরা বলেছিলাম সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে। তারা রাজ্যকে সহযোগিতা করতে এসেছিল। এ ক্ষেত্রেও কমিশন চাইলে সহযোগিতা চাইতে পারে। কমিশন ৬ থেকে ১০টি জেলাকে স্পর্শকাতর ঘোষণা করেছে। প্রয়োজনে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা যেতে পারে। পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় মোতায়েন করলে ভাল হয়। রাজ্য নিজের মতো বাহিনী দেবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন কমিশনের।
পঞ্চায়েত ভোট পিছনো নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, মনোনয়ন পেশের সময় অনেক কম। আগের বারের চেয়ে এবার অনেক কম মনোনন জমা পড়েছে। ভোট পিছনোর প্রসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, চাইলে মনোনয়নের সময় এক দিন বাড়ানো যেতে পারে। ৯ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল, তা ৯ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত করা যেতে পারে। প্রধান বিচারপতি বলেন, মনোনয়নের দিন পিছিয়ে গেলে নির্বাচনের দিনও পিছিয়ে যাবে। সেটা ১৪ জুলাই হতে পারে! যেদিন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হল, সেদিনই মনোনয়ন জমা শুরু কী ভাবে হয়! মনোনয়ন জমা নেওয়ার জন্য সবাই কি প্রস্তুত ছিল, প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির।
এরপরই কমিশনের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। সবাই যাতে সুযোগ পান তেমন সময়সূচি করা দরকার। আদালত নির্দেশ দিলে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন পেশের সময়সীমা বাড়াতে প্রস্তুত কমিশন। আগেও আমরা ৭ দিনের সময়সীমা দিয়ে নির্বাচন করেছি। তখন সমস্যা হয়নি। যদি মনোনয়ন পেশের দিন একদিন বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে সব তারিখ একদিন করে পিছিয়ে দিতে হবে। একদিন পিছিয়ে দিলে কোথাও কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু তার বেশি পিছতে হলে নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, মনোনয়ন জমা চলুক। সময় বাড়ান। নিয়মমতো যে ভাবে নির্বাচনী নির্ঘন্ট করা দরকার সেরকম করুন। বিডিও, এসডিদেরও প্রস্তুতি দরকার। কমিশনের আইনজীবী বলেন, সবাই প্রস্তুত। মামলায় আইনভঙ্গের বা অরাজকতার অভিযোগে করা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেটা হয়েছে। কিন্তু তার জন্য যারা যারা দায়ী তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।