কলকাতা: কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নয় পঞ্চায়েত ভোট, জানিয়ে দিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। প্রত্যেক বুথেই থাকছে সশস্ত্র পুলিশ। ১০০ শতাংশ বুথেই স্পর্শকাতর। প্রত্যেক বুথেই নজরদারিতে থাকবে সিসিটিভি। মুখ্যসচিব এবং ডিজি সঙ্গে বৈঠকের পর ঘোষণা নির্বাচন কমিশনারের। ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভোটারদের লাইন ঠিক করবে লাঠিধারী পুলিশ। সেক্টর অফিসে পর্যাপ্ত সশস্ত্র ও লাঠিধারী পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কোনও সিদ্ধান্ত নেই। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে পুলিশ নিয়ে আসা হবে। কিছু কিছু জায়গায় নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকলে সেখানে ভিডিওগ্রাফি করা হবে।
রাজ্যের প্রায় ৭৩ হাজার আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য কার্যত ৬ দিন পাওয়া যাচ্ছে৷ যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়াতে শুরু করে দিয়েছেন বিরোধীরা৷ মনোনয়ন পেশের সময় পর্যাপ্ত নয়, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানাল আদালত। রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, মন্তব্য আদালতের। রায়ের পর নির্বাচন কমিশন জানায়, মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করে দেখতে হবে।
আগামী ৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট (Panchayet Election)। ফলপ্রকাশ ১১ জুলাই। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের পাশাপাশি দুদশক পর এবার পাহাড়েও হবে দ্বিস্তর পঞ্চায়েত ভোট। রাজ্য পুলিশ নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)? এ নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক-বিরোধী শিবিরে। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা রেখেছে। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ভোটে থাকছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী।
জেলাশাসক, পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা জানান, ‘আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে ও নির্বিঘ্নে নির্বাচন পরিচালনা করতে। কোনও কিছু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পুলিশের মোতায়েন কীভাবে হবে তা আমরা যথা সময় জানাবো।
অতীত অভিজ্ঞতা থেকে রাজ্যের পাঁচ জেলাকে স্পর্শকাতর জেলা হিসাবেই আপাতত বেছে ভোট করতে চায় কমিশন। বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, জলপাইগুড়িকে স্পর্শকাতর জেলার তালিকায় রাখছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাই এই পাঁচ জেলাকে বিশেষভাবে এদিন সতর্ক করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জেলাশাসক পুলিশ সুপারের বৈঠকে ৷ এমনটাই কমিশন সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই লাগু হয়ে গিয়েছে আদর্শ আচরণ বিধি। রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই মাঠে নেমে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল। পিছিয়ে নেই বিজেপি, সিপিএমও। জেলায় জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচার।