পৃথিবীতে প্রাণ সঞ্চারের প্রধানতম উপাদান কী জানেন তো? সূর্য। তার আলো আর উত্তাপ সঠিক পরিমাণে এই গ্রহে পৌঁছয় বলেই জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে। যেদিন সূর্য নিজে ধ্বংস হবে সেদিন আমাদের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। তবে ‘শেষের সেদিন’ বহু বহু দূরে। সূর্য এখন তরতাজা যুবক। দিব্যি হাসিখুশি আছে সে। হাসিখুশি শব্দটা বাড়াবাড়ি হল? নাসা সম্প্রতি সূর্যের যে ছবি তুলেছে তা দেখলে বুঝতেন এই প্রতিবেদক একটুও বাড়িয়ে বলেনি।
নাসার একটি উপগ্রহ সম্প্রতি সূর্যের ছবি তুলেছে। সেই ছবি দেখলেই মনে হতে বাধ্য, সূর্য হাসছে। হ্যাঁ, হাসছে। বুধবার সেই ছবি টুইটারে পোস্ট করেছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। তাতে লেখা, আজ নাসার সোলার ডাইনামিক্স অবজারভেটরি সূর্যের হাসিমুখের ছবি তুলেছে। ছবিটায় গোল জ্বলন্ত সূর্যের গায়ে তিন জায়গায় কালো গর্তের মতো। সেগুলোর অবস্থান এমনই যেন মনে হচ্ছে দুটো চোখ আর মুখ। মুখগহ্বরের মতো দেখতে গর্তটা এমন আকার ধারণ করেছে, দেখে মনে হচ্ছে সে হাসছে।
ওই কালো অংশগুলো হল করোনাল গর্ত। দ্রুতবেগে সৌর হাওয়া ওই গর্তগুলো থেকেই মহাকাশে ধাবিত হয়।
আরও পড়ুন: Royal Bengal Tiger: সুন্দরবনের জঙ্গলে জোড়া বাঘের দর্শন পর্যটকদের
নাসার উপগ্রহের তোলা সূর্যের হাসিমুখের ছবি
প্রসঙ্গত, নাসার সোলার ডাইনামিক্স অবজারভেটরির কাজই হল সূর্যের ওপর নজর রাখা। সূর্য কী কী করছে, তার প্রভাবে মহাকাশের আবহাওয়ায় কী কী পরিবর্তন হয় সে সব নিয়ে গবেষণা করে চলেছে এটি। সূর্যের অভ্যন্তরভাগ, বায়ুমণ্ডল, চৌম্বক ক্ষেত্র, শক্তি বিচ্ছুরণ নিয়েও চলছে গবেষণা। যাই হোক, সূর্যের হাসিমুখের ছবি পোস্ট হতেই ভাইরাল হয়ে পড়েছে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, দেখতে হাসিমুখ হলেও এই করোনাল গর্ত দেখতে পাওয়ার অর্থ সৌরঝড় আছড়ে পড়বে পৃথিবীতে। শনিবারই ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে।