কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikary) রক্ষাকবচ মামলায় তাঁর নিরাপত্তারক্ষীর (Security Guard) মৃত্যুর (Death) ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য (State)। বুধবার আদালত (Court) প্রশ্ন তোলে ঘটনার এতদিন পরে কেন মৃতের স্ত্রী অভিযোগ করলেন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার তত্ত্বকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, ঘটনা কীভাবে ঘটেছে পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ দেখেই তা নিশ্চিত করে বলা যাবে। তিনি আরও বলেন, মৃতের স্ত্রীর অভিযোগে কোথাও হত্যার কথা লেখা নেই। তিনি শুধু এটাই বলেছেন যে, ঘটনার পর অ্যাম্বুল্যান্স আসতে দেরি হয়েছে। ঘটনার পাঁচ বছর পর মামলা নতুন করে শুরু হলে এরকম কত ঘটনা আদালতে আসবে, ভেবে দেখুন। নতুন করে মামলা শুরু করার প্রয়োজনীয়তা কী, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি।
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই মামলায় আর্থিক দুর্নীতির প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণায় নাম জড়িয়েছে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরা এবং চঞ্চল নন্দীর। বিরোধী দলনেতার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছে। এই মামলায় আর্থিক দুর্নীতির প্রশ্ন উঠলেও ইডি কেন চুপ করে আছে, সেই প্রশ্ন করেন কল্যাণ। তিনি আরও বলেন, চঞ্চল নন্দী যখন আদালত থেকে রক্ষাকবচ জোগাড় করতে পারেননি তখন শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে মামলা করে রক্ষাকবচ পেয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, আদালতের রক্ষাকবচ মাথার উপর রয়েছে বলেই ইডির তদন্তে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: বাঁকুড়ার পর বিষ্ণুপুরেও বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে
সরকারি আইনজীবী আদালতের উদ্দেশে বলেন, নিহতের স্ত্রী কী বলছেন, সেটা একবার দেখুন। বিচারপতি বলেন, সবই বুঝলাম। প্রশ্ন একটাই। এতদিন পরে কেন তিনি অভিযোগ করলেন। রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ঘটনার সময় শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। তাই তাঁর পরিবার ভয়ে অভিযোগ করতে পারেনি। শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী বলেন, পুলিশ সুপারকে শুভেন্দু অনন্তনাগে বদলি করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এখন কেন্দ্রীয় সরকার হাতে আছে বলেই শুভেন্দু এসব হুমকি দিতে পারছেন। পাল্টা বিচারপতি বলেন, যে ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেই ধরনের ঘটনা কি ঘটেছে? মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর।