ইম্ফল: জ্বলন্ত মণিপুরে পথে পা রাখলেন না জগন্নাথদেবও। স্মরণাতীতকালের মধ্যে এই প্রথম রথযাত্রা বন্ধ থাকল উত্তর-পূর্বের এই পার্বত্য রাজ্যে। রথযাত্রা বা স্থানীয় কং উৎসব সুপ্রাচীনকাল থেকে মণিপুরের এক ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কিন্তু গত ৩ মে শুরু হওয়া মেইতি ও কুকি জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রায় রোজই রক্ত ঝরছে রাজ্যে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাবাবেগকে আঘাত করলেও নিরাপত্তার খাতিরে রথযাত্রার উৎসব বন্ধ রাখল মন্দির কমিটিগুলি।
হিংসা উন্মত্ত মণিপুরে এ পর্যন্ত প্রায় শ’খানেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার লোক ঘরছাড়া। তবে রথ না বেরলেও মন্দিরের ভিতরে নিয়মবিধি মেনে নমোনমো করে পুজো ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান চলছে। ব্রাহ্মণ সভার তরফে নবকুমার শর্মা জানিয়েছেন, রাজ্যে অশান্তি ও হিংসার কারণে আমরা রাজ রথযাত্রা বা কং রাস্তায় শোভাযাত্রা সহকারে বের করিনি। এই সভাই হলে হিন্দুদের যে কোনও উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। শেষবার করোনার কারণে রথযাত্রা বন্ধ থাকার পর এবারও জগন্নাথদেব পথে নামলেন না। করোনা ছাড়া আর কবে রথ বেরয়নি তা বলতে পারলেন না তিনি।
আরও পড়ুন: Rath Yatra 2023 | Tarapith | শুধু জগন্নাথ নয়, রথের দিন রথে চড়ে শহর ভ্রমণ করেন তারাপীঠের মা তারাও
তিনি আরও জানান, ইসকন কর্তৃপক্ষও শোভাযাত্রা সহকারে রথ বের করছে না। উল্লেখ্য, মণিপুর রাজপ্রাসাদ চত্বরে থাকা শ্রীগোবিন্দজি মন্দিরে থাকা জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মূর্তি রথে চাপিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রতিবছর যোগ দেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। এছাড়াও ফি বছরই রাজ্যের প্রতিটি পাড়ায় হিন্দু মেইতি ব্রাহ্মণ পরিবারের পক্ষ থেকে রথ বের করা হয়।
দেবতা শর্মা নামে এক মেইতি ব্রাহ্মণ বলেন, হিংসায় মৃতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে আমাদের অধিকাংশ পরিবার এবার রথ বের করছে না। মণিপুরে জগন্নাথদেবের প্রথম মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয় পুরীর এক ব্রাহ্মণের হাত ধরে। ১৬৯৭-১৭০৯ সালের মধ্যে মেইডিঙ্গু চরাইরোংবার রাজত্বকালে এক ব্রাহ্মণ এসে ব্রহ্মপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। পরে তাঁকেই রাজা রথযাত্রার দিন রাজরথে জগন্নাথদেবের শোভাযাত্রা সূচনার দায়িত্ব দেন। মহারাজা ভাগ্যচন্দ্রের আমলে ১৭৮০ সালে আনুষ্ঠানিক রথযাত্রার সূচনা হয়। আগে যা ছিল রাজপরিবারের নিজস্ব উৎসব, সেটাই আমজনতার হয়ে ওঠে ১৮৩২ সাল নাগাদ। মহারাজা গম্ভীর সিংয়ের আমলে স্থাপিত হয় শ্রীগোবিন্দজির মন্দির।