Placeholder canvas
কলকাতা শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ |
K:T:V Clock
Fourth Pillar: দেশদ্রোহী সাভারকর, ভারতরত্ন সাভারকর 
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক Published By:  কৃশানু ঘোষ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ১০:৩০:০০ পিএম
  • / ১৬২ বার খবরটি পড়া হয়েছে
  • কৃশানু ঘোষ

বাংলা বিহার ওড়িশার গভর্নর লেবং রেসকোর্সে হাজির, উৎসবের মেজাজ, সাহেবসুবোরা মেমসাহেব আর বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে হাজির। আর এরই মধ্যে ঘোড়দৌড় চলছে, হঠাৎ এক যুবক গভর্নর সাহেবের বক্সের সামনে হাজির, হাতে উদ্যত পিস্তল, গুলি চালালেন সেই যুবক। এবার অন্যদিক থেকে আর এক যুবক, সে ৬ ফিটের মধ্যে, সেও গুলি চালাল, এবারেও বেঁচে গেল গভর্নর স্যর জন অ্যান্ডারসন। এই মামলায় প্রথম যুবক ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য, রবীন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, মনোরঞ্জন ব্যানার্জির ফাঁসি হল। যাবজ্জীবন জেল হল উজ্জলা মজুমদার সহ আর জনাচারেক বিপ্লবীর। দেশ স্বাধীন হবার পরে, ওই স্যর জন অ্যান্ডারসনের আলিপুরের বাড়ি, দফতর যা নাকি অ্যান্ডারসন হাউস নামে পরিচিত ছিল, তা পালটে ভবানী ভবন নাম রাখা হয়। ভবানী ভবনে কাজে, প্রয়োজনে হাজার লক্ষ মানুষ যান, অনেকেই জানেন না, আবার অনেকেই জানেন এ ইতিহাস। এভাবেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বহু বাড়ি, রাস্তা ইত্যাদি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামে করা হয়েছে, বহু মূর্তি সরিয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হয়েছে, এ নতুন কিছু নয়। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী, নেতাদের স্বাধীনতার পরে দেশ সম্মান জানিয়েছে, যারা ব্রিটিশ জেলে বছরের পর বছর কাটিয়েছে, আন্দামানে জেলে পচেছে আমৃত্যু, সুদুর বার্মার জেলে বন্দি থেকেছে। যাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা ছিল, স্বাধীনতার পরেই তারা দেশপ্রেমিক, তারা স্বাধীনতা সংগ্রামী। এমনটাই হয়েছে দেশে দেশে। 

কিন্তু এবার চাকা ঘুরছে, দেশের সরকারে আছে এমন দল, এমন সংগঠন যাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও ভূমিকা তো নেই-ই, উলটে তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস আমাদের জানা। কাজেই কংগ্রেসের আমলে অন্তত এই সুবিধে ছিল, যাদের তাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামী বলছেন, তাঁরা আদতে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন, তাঁরা অনেক সময়েই কংগ্রেসের বাইরে যে সশস্ত্র আন্দোলনের ধারা ছিল, তাকে সত্যি উপেক্ষা করেছে। দেশের ইতিহাসেও ভালো করে জায়গা পাননি তাঁরা যাঁরা জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন, ফাঁসিকাঠে প্রাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশবাসীর চাপেই দেশের বিপ্লবীরা স্বীকৃতি পেয়েছেন। এখন বিজেপির বা আরএসএস-এর সমস্যা হল তাদের কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তো নেই-ই, উল্টে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস আছে। দেশে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারত ছাড়ো আন্দোলন চলছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা এক আওয়াজ, ইংরেজ ভারত ছাড়ো, হাতে পতাকা নিয়ে গুলি বুকে নিয়ে লুটিয়ে পড়লেন মাতঙ্গিনী হাজরা, তমলুকে স্বাধীন দেশের পতাকা তুলে দেওয়া হল। ঠিক সেই সময়ে আজকের বিজেপির প্রাণপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা মুসলিম লিগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলার সরকার চালাচ্ছেন। শ্যামাপ্রসাদ চিঠি লিখছেন লাটসাহেবকে, আমরা ওই আন্দোলনে নেই, আপনার নির্দেশ মেনেই ওই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই আন্দোলন দমনের জন্য যা সাহায্য লাগবে আমরা তা করার জন্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকে যখন কাঁথির খোকাবাবু বিজেপি করেন তখন ইচ্ছে করেই ভুলে যান এই বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসকে। আমাদের দেশে দ্বিজাতি তত্ত্ব কারা জোর দিয়ে প্রচার করছিল? জিন্না আর সাভারকর। সাভারকর পরিষ্কার লিখছেন, “India cannot be assumed today to be a unitarian and homogeneous nation, but on the contrary there are two nations in the main; the Hindus and the Moslems, in India.” হিন্দু মহাসভার আহমেদাবাদ কনভেনশনে ১৯৩৭-এ তিনি বলছেন, ভারতবর্ষ এক জাতির দেশ নয়, এখানে হিন্দু এবং মুসলমান দুই জাতির বাস। এমনকী জিন্না টু নেশন থিওরির ভিত্তিতে পাকিস্তান দাবি করার বহু আগেই সাভারকর দ্বিজাতি তত্ত্ব তুলে ধরেছেন। দেশভাগের ভিত্তিই ছিল এই টু নেশন থিওরি। একধারে গান্ধীর বিরোধিতা, অন্যধারে দেশভাগের উস্কানি দিয়ে আসলে এক হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের খোয়াব দেখছিলেন এই বিনায়ক দামোদরদাস সাভারকর। 

আরও পড়ুন: Facebook: ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রোডাক্ট নিয়ে চীনে প্রবেশের পথে ফেসবুক! 

এত কথা আজ বলা কেন? বিজেপির নতুন সহযোগী শিবসেনা ভেঙে নিজেই শিবসেনা হয়ে ওঠা একনাথ শিন্ডে গতকাল শিবসেনার নবনির্বাচিত প্রমুখ হলেন। সেই প্রথম সভাতেই ঘোষণা করা হল, মুম্বই চার্চগেট স্টেশনের নাম পাল্টে সাভারকরের নামে রাখা হবে এবং বিনায়ক দামোদরদাস সাভারকরকে ভারতরত্ন পুরস্কার দিতে হবে। যদি সত্যিই আত্মা ইত্যাদি কিছু থাকত তাহলে দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসিকাঠে প্রাণ দেওয়া, আন্দামানের সেলুলার জেলে বছরের পর বছর পচে মরা বিপ্লবীরা হা হা করে হাসতেন। কারণ তাঁরা কানাইলাল-সত্যেনের ভাই, সহকর্মী, যে বিপ্লবীদের শপথের সময় প্রথমেই বলা হত, বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রাজসাক্ষী হতে চাওয়া নরেন গোঁসাইকে জেলের মধ্যে খুন করেছিল কানাইলাল দত্ত আর সত্যেন বসু। বিনায়ক দামোদর সাভারকর তাঁর প্রথম জীবনে বিপ্লবের কথা বলেন, বিপ্লবী কাজের সঙ্গে জড়িত হন, তারপর তাঁকে গ্রেফতার করে আন্দামানে পাঠানো হয়। ব্যস, এইখানেই তাঁর বিপ্লবী জীবন শেষ, তিনি মুচলেকার পর মুচলেকা দিতে থাকেন ইংরেজ শাসকদের, আমাকে ছেড়ে দিন, আমি আর বিপ্লবীদের সঙ্গে থাকব না, বিপ্লবীদের অনুসরণ করব না, বিপ্লবীদের আদর্শ মাথা থেকে দূর করেছি, আমাকে ছেড়ে দিন, এই জেলে থাকলে আমি মরে যাব। গোটাতিনেক এরকম চিঠি লেখার পরেও তাঁকে ছাড়া হল না, এবার তিনি লিখলেন, আমি তো ছেড়েই দেব, কেবল তাই নয়, যে সমস্ত বিপথগামী যুবক এই সশস্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, তাদেরকেও সরকারের সহযোগিতা করার পথে নিয়ে আসার কাজ করব। এরকম দুটো চিঠি পাবার পরে ইংরেজরা সাভারকারকে ছেড়ে দেয়। 

ইংরেজরা ওনাকে ছেড়ে দিলেও নজরে রেখেছিল, কিন্তু বেশিদিন সেই নজরদারি থাকেনি কারণ জেল থেকে বেরিয়েই উনি সাফ জানিয়েছিলেন, আমাদের প্রথম কাজ হল ২৫০ বছরের মুসলমান শাসনের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসা। তাঁর ঘোষিত শত্রু তুর্ক-মোগল-তাতার-শক-হুণ, যারা হয় আমাদের দেশ ছেড়ে কবেই চলে গেছে, না হলে দেশে থেকে গেছে এদেশের একজন হিসেবে। কিন্তু এই মুসলমানরাই তখন ঘোষিত শত্রু, ভারতবর্ষ হিন্দুদের দেশ, হিন্দুরাষ্ট্রের জন্য তিনি লড়তে থাকলেন। ইংরেজরা খুশি কারণ তাদের ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি কাজে লেগেছে, একধারে মুসলিম লিগ অন্যধারে সাভারকর, আরএসএস, হিন্দু মহাসভা মিলে হিন্দু-মুসলমান বিদ্বেষ ছড়াতে লাগল। এবং এত কিছু করার পরেও জিন্না পাকিস্তান পেলেন বটে কিন্তু সাভারকরের দল ভারতবর্ষকে হিন্দুরাষ্ট্র করে তোলার হাজারো চেষ্টা এদেশের মানুষ মেনে নিল না। এদেশেই থাকলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, এদেশেই থেকে গেলেন গরিষ্ঠাংশ মুসলমান। এদেশ ধর্মনিরপেক্ষতার পথে চলল, হাজারো দাঙ্গার মাঝে গান্ধী হাঁটছেন, মানুষ অস্ত্র ফেলে দিচ্ছে, চোখের সামনে ওই হিন্দুত্ববাদীদের যাবতীয় পরিকল্পনা ফিরিয়ে দিচ্ছে মানুষ। তাদের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ালেন গান্ধীজি। এই বিনায়ক দামোদরদাস সাভারকরের প্রত্যক্ষ সহায়তা আর নির্দেশে গান্ধীহত্যার নীল নকশা রচনা হল। দিল্লিতে বৈঠক, একই প্লেনে পাশাপাশি বসে দিল্লি গেলেন সাভারকর, নাথুরাম গডসে, নারায়ণ আপ্তে, তিনজন চিৎপাবন ব্রাহ্মণ। তারপর শেষ অস্ত্র জোগাড়ের জন্যও গডসে নির্দেশ পেলেন সাভারকরের কাছ থেকে। গোয়ালিয়রে দত্তাত্রেয় সদাশিভ পরচুরের কাছ থেকে পেলেন ইতালিয়ান বেরেত্তা পিস্তল, যা দিয়ে খুন করা হল জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে। সাভারকরই ছিলেন এই ষড়যন্ত্রের মাথায়। সেই গান্ধী হত্যাকারীকে ভারতরত্ন দেবার প্রস্তাব। ওই চার্চগেট স্টেশনে নামার পরে গ্রেফতার হয়েছিলেন নারায়ণ আপ্তে, সেটার নাম রাখা হবে সাভারকরের নামে, এটাই প্রস্তাব। স্বাধীনতার অমৃতকাল চলছে, অ্যাট লিস্ট মোদিজি, নির্মলা সীতারমন তো তাই বলছেন। সেই অমৃতকালে এক দেশদ্রোহীকে ভারতরত্ন দেবার কথা বলছে দেশের অন্যতম বড় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যিনি আমাদের দেশ বিভাজনের মূলে, যাঁর তত্ত্ব নিয়েই গড়ে উঠেছিল দেশ বিভাজনের ষড়যন্ত্র, সেই সাভারকরকে দেওয়া হবে ভারতরত্ন। আসলে আরএসএস–বিজেপি দেশের ইতিহাস বদলে দিতে চায়, তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস ধুয়ে দেশপ্রেমিক হতে চায়, এটা সেই দিকেই একটা পদক্ষেপ।

 

পুরনো খবরের আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০ ১১ ১২
১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮ ১৯
২০ ২১ ২২ ২৩ ২৪ ২৫ ২৬
২৭ ২৮ ২৯ ৩০  
আর্কাইভ

এই মুহূর্তে

2020 Delhi Riots : বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের বিরুদ্ধে ফের তদন্তের নির্দেশ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
ঈদে রীনার সঙ্গে সেলফি কিরণের,এন্ট্রি নেই গৌরীর ! আমির কোথায়!
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
ঝুঁকিতে কলকাতা, ভূমিকম্পের তছনছ হতে পারে গোটা শহর!
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
টিকল না বিরোধীদের আপত্তি, বুধবারই সংসদে পেশ হবে ওয়াকফ বিল
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
গুজরাটে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ১৮, বাড়তে পারে সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
৮৯ বছর বয়সে ধর্মেন্দ্রর চোখে অস্ত্রোপচার সঙ্গে নেই নিজের কেউ !
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
আওরঙ্গজেবপুর হল শিবাজীনগর! ফের ১১ স্থানের নাম বদল বিজেপির
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
প্রয়াগরাজে বুলডোজ মামলা: সুপ্রিম ভর্ৎসনা, ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
দর্শক টানছে না ‘সিকন্দার’, ঈদের দিনে বুলেটপ্রুফ গ্লাসের ওপারে ভাইজান!
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
বিমসটেক বৈঠকে যোগ দিতে এবার ব্যাংকক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার রওনা
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
নদীতে হাঁটু সমান জল, হাত দিলে উঠে আসছে কার্তুজ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
“কথা না শুনলে শাস্তি পাবে,” রাশিয়াকে কেন একথা বললেন ট্রাম্প?
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
ঘিবলি আর্টে মজলেন অমিতাভ
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
পাথরপ্রতিমা বিস্ফোরণ নিয়ে এবার কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
মা-মেয়েকে নিয়ে গল্প বলবে ‘পুরাতন’? প্রকাশ্যে ট্রেলার
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.
Developed By KolkataTV Team