বীরভূম: দুবরাজপুরের (Birbhum Dubrajpur) বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল টিকিটে জয়লাভ করলেন শিবঠাকুরের (Shibthakur Mondal) স্ত্রী লিপিকা মণ্ডল (Lipika Mondal)। খুনের চেষ্টার অভিযোগ এনে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন লিপিকার স্বামী শিবঠাকুর মণ্ডল। আর ওই মামলার জেরেই দিল্লিযাত্রা কিছুটা হলেও পিছিয়ে যায় বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতির। সেই শিবঠাকুর মণ্ডলের স্ত্রীকেই এবার তৃণমূলের টিকিটে ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন। বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের বনকাটি ১৬৫ নম্বর সংসদ থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লিপিকা। ভোটে জিতে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
লিপিকা মণ্ডল কলেজ জীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বরাবরই তাঁর সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে। সে কারণেই তাঁর রাজনীতিতে আসা। পেশায় তিনি শিক্ষিকাও। আগেও তৃণমূল থেকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তবে এবার আর সুযোগ পেয়েই তা কাজে লাগান। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জিতলেনও লিপিকা। জয়ের পর লিপিকা জানান, আমার হয়ে যাঁরা ভোটে পরিশ্রম করেছেন, তাঁরা খুবই চিন্তায় ছিলেন। তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে দেখে খুব ভাল লাগছে। ভগবানের আশীর্বাদ পেয়েছেন, মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। আমি আশাবাদী ছিলাম, কারণ সারা জীবন মানুষের পাশে থেকেছি। সব সময় মানুষের পাশে থাকব। আমার উপর ভরসা করার জন্য মমতাদি, অভিষেকদার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা।
আরও পড়ুন: Panchayat Election | NIA-র হাতে ধৃত তৃণমূল প্রার্থীর জয় নলহাটিতে
গরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরার করতে চেয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সেই অনুমতি দিয়েছিল দিল্লিরই একটি আদালত। কিন্তু দিল্লি যাওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অনুব্রতর বিরুদ্ধে করা শিবঠাকুরের মামলা। তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান শিবঠাকুরকে খুনের চেষ্টা করেছিল অনুব্রত। এই অভিযোগ তুলে অনুব্রতর বিরুদ্ধে দুবরাজপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শিবঠাকুর। পরের দিনই আদালতে হাজির করিয়ে কেষ্টকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। যদিও শিবঠাকুর দাবি করেছিলেন, ভয়ে এত দিন অভিযোগ দায়ের করেননি। সেই শিবঠাকুরের স্ত্রী লিপিকা বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বনকাটি, ১৬৫ নম্বর সংসদ থেকে তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। পঞ্চায়েত সমিতিতে তিনি লড়াই করেন। এবং জয় পেলেন।