চেন্নাই: তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতা, তরুণ মন্ত্রী উদয়নিধি (Udhayanidhi) স্ট্যালিন সনাতন ধর্ম (Sanatan Dharma) নিশ্চিহ্ন করার কথা বলায় দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী দলগুলি গেল গেল রব তুলে আসরে নেমে পড়েছে। প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার উদয়নিধির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিলেন প্রায় আড়াইশো বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন হাইকোর্টের অবসরপ্তাপ্ত ১৪ জন বিচারপতিও রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, উদয়নিধির মন্তব্যে ভারতীয় নাগরিক মননে আঘাত দিয়েছে। এর জেরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হবে। দেশে হানাহানির পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শনিবার। একটি অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ছেলে উদয়নিধি বলেন, সনাতন ধর্ম ন্যায় এবং সাম্যের বিরোধী। আমরা যেমন ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া নিশ্চিহ্ন করার কথা বলি, তেমনি সনাতন ধর্মকেও নিশ্চিহ্ন করা দরকার। এই ধর্ম মহিলাদের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখতে চায়। তাদের বাড়ি থেকে বেরতে দিতে চায় না।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | এক দেশ এক নির্বাচন এবং মোদিজি’র মিথ্যাচার
ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক ডিএমকে দলের মন্ত্রী এই কথা বলায় তেড়েফুঁড়ে উঠেছে নানা হিন্দুবাদী সংগঠন। বিজেপির অভিযোগ, ওই দ্রাবিড় নেতা হিন্দু গণহত্যার ডাক দিয়েছেন। যদিও উদয়নিধির দাবি, তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি গণহত্যার কথা বলেননি। সনাতন ধর্ম নিশ্চিহ্ন করার কথা বলেছেন। ডিএমকে নেতা এখনও তাঁর বক্তব্যে অনড়। তবে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল প্রভৃতি দল এখনও সেভাবে ডিএমকে নেতার পাশে দাঁড়াননি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দূরত্ব বজায় রেখে সোমবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে সব ধর্মের সমান অধিকার রয়েছে। মমতার কথায়, উদয়নিধি নতুন রাজনীতিতে এসেছেন। কংগ্র্সের প্রবীণ নেতা কমল নাথ বলেছেন, এটা ইন্ডিয়া জোটের বক্তব্য নয়। উদয়নিধির ব্যক্তিগত মত।
বিশিষ্টদের চিঠিতে শাহিন আবদুল্লা বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাতে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছিল, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিতে বসবাস করতে না পারলে ভ্রাতৃত্ববোধ জন্মাবে না। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ঘৃণা ভাষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উদয়নিধি তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেননি। বরং তিনি এমন কথা বলেই যাবেন বলে জানিয়েছেন। বিশিষ্টদের আরও বক্তব্য, তামিলনাড়ু সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করুক।