কাঠমাণ্ডু: আর ৭৭ বছরের মধ্যে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলির বর্তমান আকারের ৭৫ শতাংশ গলে যাবে। উষ্ণায়নের কারণে যেভাবে বেনজির গতিতে হিমবাহ গলছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার হিন্দুকুশ হিমালয় পার্বত্য এলাকায় ২১০০ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ গলে যাবে। একটি সমীক্ষায় এই তথ্য দিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এর ফলে পার্বত্য এলাকা এবং নদী তীরবর্তী বসতির মানুষ ভয়ঙ্কর বিপদের মুখোমুখি হবেন। পার্বত্য নদীগুলিতে প্লাবন হবে। ভয়ঙ্কর জলকষ্টের মধ্যে পড়তে হবে প্রায় ২০০ কোটি মানুষকে।
কাঠমাণ্ডুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেড ডেভেলপমেন্ট (ICIMOD) মঙ্গলবার সতর্ক করে জানিয়েছে, নাড়া পোড়ানো চিরতরে বন্ধ করা না গেলে হড়পা বান এবং তুষারধস দিনদিন বাড়তে থাকবে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, হিমালয়ের কোলে ও পাদদেশে বসবাসকারী ২৪ কোটি মানুষ পানীয় জলসঙ্কটে পড়বেন। এছাড়াও হিমালয় থেকে নেমে আসা ১২টি নদীর তীরবর্তী ১৬৫ কোটি মানুষও পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হবেন।
সমীক্ষাকারী দলের গবেষক এবং পরিযায়ী বিশেষজ্ঞ আমিনা মহার্জন বলেন, পরিবেশ পরিবর্তনেরর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনধারণ ধীরে ধীরে বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। কারণ এরা বিশ্ব উষ্ণায়নের সবকিছু জেনেও তা ঠেকানোর কোনও চেষ্টা করেনি। চলতি যেসব কাজ হচ্ছে তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ না হলে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
আরও পড়ুন: International Yoga Day | কেন আর কবে থেকে পালন হয় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস? জানুন ইতিহাস
প্রসঙ্গত, এর আগেও বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর তুষারাবৃত বহু এলাকায় উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ, মাউন্ট এভারেস্টের তুষারও কমে আসছে। ২০০০ বছর আগের বরফ গত ৩০ বছরে গলে গিয়েছে। গবেষণা ও সমীক্ষাটি হিমবাহের গলন কীভাবে পানীয় জল, পরিবেশ এবং পার্বত্য এলাকার মানুষের উপর প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত ক্ষয় হয়েছে। যা আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুতগতিতে হয়েছে।
সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী দেড় থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের প্রভাবে ২১০০ সালের মধ্যে হিমবাহগুলির মোট আকারের ৩০-৫০ শতাংশ ক্ষয় হয়ে যাবে। কিন্তু, ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নে নেপাল, ভুটানসহ পূর্ব হিমালয়ে ৭৫ শতাংশ তুষার গলে যাবে। ৪ ডিগ্রিতে তা ৮০ শতাংশ ক্ষয় ডেকে আনবে। সমীক্ষার গবেষণাকারী দলের প্রধান ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ফিলিপাস ওয়েস্টার বলেন, আমরা হিমবাহগুলিকে হারাতে চলেছি। আগামী ১০০ বছরের মধ্যেই তার ক্ষয়কাজ সম্পূর্ণ হবে।