ভিন রাজ্যে বাঙালির সেকেন্ড হোম বললে বারাণসীর (Banaras) আগেও হয়তো পুরীর (Puri) নাম মনে পড়ে যায়। আসলে বারাণসীতে প্রচুর বাঙালি বসবাস করেন বলেই এই স্থানকে অনেকে বাঙালির সেকেন্ড হোম বলে থাকেন। সারা বছরই পুরীর আনাচ কানাচ বাঙালি পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে। যাঁরা পুরীতে গেছেন তাঁরা নিজেরাই তার সাক্ষী। আর পুরী ভ্রমণ মানেই জগন্নাথের মন্দির দর্শন।
সিংহদুয়ার দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ
জগন্নাথ মন্দিরের প্রবেশ পথ বা সিংহ দুয়ারকে বলা হয় পূর্ব দরজা। জগন্নাথ মন্দিরে চারটি দরজা আছে। মন্দিরের মূল প্রবেশপথ সিংহদরজা। এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় ঢেউয়ের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু, সিংহদরজা অতিক্রম করার পর ফের ঘুরে পিছন ফিরে একই দিকে গেলে আর ঢেউয়ের আওয়াজ শোনা যায় না।
আরও পড়ুন: Suriya | Karna | এবার কর্ণের চরিত্রে সুরিয়া
গরুড় স্তম্ভ
সিংহদুয়ার দিয়ে প্রবেশ করে প্রথমেই ভক্তরা গরুড় স্তম্ভে মাথা নত করেন। অনেকে মূর্তিটি জড়িয়ে ধরেন। সেটাই নাকি নিয়ম। গরুড় স্তম্ভের কাছে দাঁড়ালে সেখান থেকে সরাসরি জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। কিংবদন্তী, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং এই গরুড় স্তম্ভ থেকে ভগবানের মূর্তির দর্শন করতেন। এই কারণে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অনুগামীদের কাছে গরুড় স্তম্ভ অত্যন্ত পবিত্র।
স্নান বেদী
রথের আগে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার স্নানযাত্রা যেখানে হয় সেটিকে বলে স্নান বেদী। এই স্নানযাত্রার পরে ভগবান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ ঘরে ১৫ দিন ঘরবন্দি থাকেন। এই সময় জগন্নাথ দর্শন বন্ধ থাকে। ঈশ্বরকে সুস্থ করতে বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়। তিনি সুস্থ হলে পর শুরু হয় রথযাত্রা।
কল্পবট
জগন্নাথ মন্দিরের আরেক আকর্ষণীয় বস্তু হল কল্পবট। এর আরেক নাম ইচ্ছা পূরণকারী গাছ। এটি একটি প্রাচীন বটগাছ। অনাদিকাল ধরে এই গাছ বিদ্যমান। ভক্তদের কাছে এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র গাছ। কিংবদন্তী, জড় জগতের ধ্বংসের সময়ও এই গাছটি অক্ষত থাকে। এই কল্পবতের পাতায় কৃষ্ণের বাল্যকাল দেখেতে পেয়েছিলেন ঋষি মার্কণ্ডেয়।