ক্যালিফোর্নিয়া: জেফ্রি হিন্টন (Geoffrey Hinton)। প্রযুক্তি দুনিয়ায় তাঁর পরিচয় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গডফাদার (The Godfather of AI) হিসেবে। সম্প্রতি তিনি গুগলের চাকরি (Google’s Job) ছেড়ে দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে তাঁর এই প্রস্থানকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জেফ্রি গুগল ছাড়ার ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ (Development of AI) বাধাপ্রাপ্ত হবে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য বিপদ (Potential Dangers of AI) নিয়ে যাঁরা হইচই করে থাকেন, তাঁদের দলে যোগ দিতে চলেছেন হিন্টন।
বর্তমানে যাকে নিয়ে এত শোরগোল পড়ে গিয়েছে, সেই চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) বা তার মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট (ChatBot) যে প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে আজ জনপ্রিয়তার শিখরে উঠেছে, সেই এআই সিস্টেমের বৌদ্ধিক ভিত্তি (Intellectual Foundation of AI System) তৈরি করেছিলেন হিন্টন। তিনি একদশকেরও বেশি সময় ধরে গুগলের হয়ে কাজ করছেন এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন বিশেষজ্ঞরাও।
আরও পড়ুন: Lunar Eclipse | চন্দ্রগ্রহণ কী কী প্রভাব পড়তে চলছে আপনার জীবনে, জানুন ১২ রাশির হাল
জনপ্রিয় এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেফ্রি হিন্টন বলেছেন, তিনি গুগল ছেড়েছেন তাঁর একটাই কারণ, তিনি যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে খোলা মনে তাঁর বক্তব্যের কথা জানাতে পারেন বিশ্বাবাসীকে। তিনি এই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, তাঁর জীবনের অন্যতম সৃষ্টি হিসেবে পরিচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আক্ষেপ (Regret) রয়েছে তাঁর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে ক্ষতিকারক (Harmful) আকার নিতে পারে এবং তা আটকানোর জন্য কতজন মানুষই বা তৈরি রয়েছেন তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, তা দেখেও আশ্চর্য হয়েছেন হিন্টন।
ওপেনএআই (OpenAI) সংস্থার তৈরি চ্যাটজিপিটির সাফল্যে তড়িঘড়ি করে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বার্ডকে (Bard) ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে গুগল। অনেকেই বলছেন, ওপেনএআই, মাইক্রোসফট (Microsoft) এবং গুগলের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে রেশারেশি শুরু হয়েছে। আগামী দিনে অন্যান্য টেক সংস্থাও (Tech Companies) এই প্রতিযোগিতায় নামবে। বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রেশারেশিতে মানবসভ্যতার ক্ষতি হবে। এই নিয়ে সরব হয়েছেন এলন মাস্কের (Elon Musk) মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত ব্যক্তিরা ছয় মাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেভেলপমেন্ট আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন। এই অবস্থায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গডফাদারের গুগলের চাকরি ছাড়া তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মাইক্রো-ব্লগিং ওয়েবসাইট টুইটারে (Micro-blogging Website Twitter) জেফ্রি হিন্টন বলেছেন – “(আজ) নিউ ইয়র্ক টাইমসে কেড মেটজ বলেছেন, আমি সমালোচনা করার জন্য গুগল ছেড়েছি। বরং গুগলের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনা না করে আমি যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপদ সম্পর্কে খোলা মনে কথা বলতে পারি, সেজন্য আমি ছেড়েছি। গুগল অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গেই কাজ করছে।”
In the NYT today, Cade Metz implies that I left Google so that I could criticize Google. Actually, I left so that I could talk about the dangers of AI without considering how this impacts Google. Google has acted very responsibly.
— Geoffrey Hinton (@geoffreyhinton) May 1, 2023
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে হিন্টন এবং অন্যান্য দুই গবেষক কম্পিউটিংয়ে নোবেল প্রাইজ (Nobel Prize of computing) পেয়েছিলেন। ডিপ লার্নিং, এআই এবং এই দুইয়ের মিশেলের ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পন্ন স্পিচ রিকগনিশন এবং কম্পিউটার ভিশন (Speech Recognition and Computer Vision)-এর ক্ষেত্রে তাঁর কাজ যুগান্তকারী সৃষ্টি।