নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন: অনেক উঁচু দিয়ে ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ড্রোন, জেট ইঞ্জিন তৈরির যৌথ উৎপাদন পরিকল্পনা। চাঁদ ও মঙ্গলাভিযানে নাসার সহযোগিতাপ্রাপ্তির আর্মেটিস চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফর বিভিন্ন রঙিন স্বপ্নের মোড়কে মোড়া। জো বাইডেনের দেশ থেকে ফেরার পর মোদির এই ‘উজ্জ্বল একঝাঁক পায়রা’ লোকসভা ভোটের আকাশে উড়িয়ে বেড়াবে বিজেপি। দেশজুড়ে বিজেপি সরকারের ‘শাহেনশা’ মোদিকে দিল্লির তখত-এ-তাউস থেকে ছুড়ে ফেলার জন্য আজ একজোট হয়েছে বিরোধীরা। তখন আমেরিকার দোকান থেকে লোকসভা ভোটে বেচার ‘জনৌষধি’ খরিদ করে আনছেন মোদি। সেই গাজর দেখিয়ে দেশের ভোটব্যাঙ্ক কবজা করতে চায় বিজেপি।
ভারত-মার্কিন চুক্তি ও ঘোষণাপত্রগুলির মধ্যে আরও আছে। যেমন, ভারতের সহযোগিতায় আমেরিকার প্রখ্যাত টেকনোলজি কোম্পানি মাইক্রন টেকনোলজি এখানে ৮২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। অত্যাধুনিক দূরসংযোগ ব্যবস্থা, ৫জি/৬জি ডেভেলপমেন্টের উপর দুটি যুগ্ম টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়েও মোদি-বাইডেন পা বাড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন: Assam Flood | ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি অসমে, ক্ষতিগ্রস্ত ৫ লক্ষ মানুষ
দুদেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ৬জি অ্যালায়েন্স এবং আমেরিকার নেক্সট জি অ্যালায়েন্সকে মাথায় রেখে সরকারি-বেসরকারি মডেলে তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নতি সাধন করা হবে। এছাড়াও কোয়ান্টাম ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নিয়ে চুক্তিও একটি বিরাট পদক্ষেপ। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রিক এবং ভারতের হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এই দুই কোম্পানি যৌথভাবে যুদ্ধবিমানের জেট ইঞ্জিন তৈরি করবে।
এই চুক্তির ফলে ভারত নিজস্ব জেট ইঞ্জিন তৈরিতে সক্ষম হবে। ১৯৬০ সাল থেকে ভারত সরকার এই কাজটাই করতে চাইছিল। কারণ ভারত যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারলেও ইঞ্জিন তৈরির প্রযুক্তির জন্য নির্ভর করতে হতো বিদেশি কয়েকটি দেশের উপর। আরও একটি বিষয় হল, ভারতীয় তিন বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন পেতে চলেছে নয়াদিল্লি। এর ফলে নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালানোরও ক্ষমতা পাবে ভারত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের বছরখানেক আগে নরেন্দ্র মোদির এই মার্কিন সফরকে অবশ্যই তুরুপের তাস করবে বিজেপি। যখন জো বাইডেনের সঙ্গে মোদির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির মেনু কার্ডে থাকছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং সর্বোপরি পাকিস্তান-চীন নিয়ে দুদেশের গাঁটছড়ার কথা। আমেরিকা বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে বলে কথা দিয়েছে। অন্যদিকে, টেসলা-টুইটারের মালিক ধনকুবের এলন মাস্ক ভারতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদিকে। এসব কিছুকে ‘বরডালা’ সাজিয়ে ভোটের প্রচারে সাধারণ মানুষের সামনে লজেনচুস হিসেবে তুলে ধরবে বিজেপি।
অন্যদিকে. চীনকে টাইট দিতে ভারতের মতো জনসংখ্যার দেশকে পাশে পেয়ে বর্তে যাবে আমেরিকা। এছাড়া, খোলা বাজার তো আছেই। ফলে, মোদির সফরকে ঘিরে বিজেপি নেতৃত্বের আদিখ্যেতার অন্ত নেই। লোকসভা ভোটের আগে এটাকে দেশের একটা বিরাট দিগ্বিজয়ী সাফল্য বলে তুলে ধরবে পদ্ম শিবির। তাই মার্কিন মুলুকের ভজনায় ভক্তিতে গদগদ মোদি হোয়াইট হাউসের আতিথ্যর ফায়দা তুলবেন এদেশে তা বলাই বাহুল্য।