নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে মারাত্মক বায়ুদূষণ। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার জেরে দিল্লি ও সন্নিহিত এনসিআর মঙ্গলবার সকাল থেকে ধুলোর চাদরে ঢেকে যায়। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই মানুষ দেখেন চারপাশে অন্ধকার নেমে এসেছে। কিছু দূরের জিনিস দেখা যাচ্ছে না। বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক স্তরে নেমে আসে। রাজধানী শহর যেন আচমকাই ধূসর নগরীতে পরিণত হয়।
প্রসঙ্গত, সোমবারই দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই শহরের ১৩টি বায়ুদূষণ প্রবণ এলাকায় পরিমাপক যন্ত্র ও এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর মেশিন উদ্বোধন করেন। তার পরদিনই দিল্লি ঘুম থেকে উঠে দেখল ধূসর আকাশ এবং ধূলিকণায় ঢাকা পরিবেশ। রীতিমতো সঙ্গে সঙ্গে নেটিজেনরা সেই ছবি পোস্ট করে বিভিন্ন মন্তব্যে দেওয়াল ভরালেন। তাঁদের অভিযোগে কান পাতা দায় হয়ে উঠল সরকারের। কেউ লিখলেন, সূর্যের দেখা নেই। চারপাশে ধুলো আর ধুলো।
আরও পড়ুন: Group-D Protest Mamata | মমতার পাড়ায় হ্যারিকেন মিছিল! বিরোধিতা করে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য
জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর বাতাস বিপজ্জনক মাত্রার নীচে নেমে গিয়েছে। কোনও কোনও অঞ্চল খারাপ এবং খুব খারাপের পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর এদিনই হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়া দিনভর আকাশ মেঘলা এবং ধুলোয় ভরা পরিবেশ থাকবে বলে জানিয়েছে। টুইটারে একজন লিখেছেন, সোমবার সন্ধ্যা থেকে এদিন বেলা পর্যন্ত নয়ডা এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। ব্যালকনি পর্যন্ত মোটা ধুলোয় ভরে গিয়েছে। দিল্লির আকাশ সম্পূর্ণ ধূসর। এর জন্য নাড়া বা ফসলের গোড়া পোড়ানোকেই দায়ী করেন তিনি।
আর একজন লিখেছেন, আমরা যেন নরকের গর্তে পড়ে রয়েছি। কিন্তু আজ যেন মনে হচ্ছে, তাতেও কেউ বাইরে থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া ও ধুলো ফেলে দিয়েছে। অন্যজন স্পষ্ট একটাই কথা লিখেছেন, নয়ডার দমবন্ধ অবস্থা। এই অবস্থায় আম আদমি পার্টির জাতীয় মুখপাত্র রীনা গুপ্তা টুইটে জবাব দিয়ে লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে দিল্লি দূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
সকাল ৮টা নাগাদ দিল্লির বাতাসে প্রচণ্ড ক্ষতিকর ধূলিকণা পিএম ১০ ছিল অত্যধিক হারে বেশি। প্রতি ঘন মিটারে তা ছিল ৭৭৫ মাইক্রোগ্রাম। এই ধূলিকণা সহজেই নাক ও মুখ দিয়ে সরাসরি ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে। যার ফলে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট, কাশি, হাঁচি। বেলা ১১টায় দিল্লিতে গড় বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ২০২। আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ৫ দিন ধরে ৪০ ডিগ্রির উপর তাপমাত্রায় মাটির ধুলো বাতাসে উড়ছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকেও শুকনো ধুলো উড়ে আসছে এদিকে হাওয়ার টানে।