কলকাতা: পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে শিক্ষক বদলি (Teacher Transfer)? অন্তত ৮৭ জন শিক্ষকের এমন বদলি চমকে দিয়েছে হাইকোর্টকে (Calcutta High Court)। আইনি ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে কী করে তা সম্ভব হল, তার ব্যাখ্যা চাইলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বোস। ঘটনা প্রায় তিন বছর আগের। ২০২০ সালের শিক্ষা দফতরের একটি নির্দেশিকার ভিত্তিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই ৮৭ জনকে বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সঙ্গে সঙ্গে সেই বদলি কার্যকরও হয়। তাঁদের মধ্যে অনেককে বাড়ির থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরের স্কুলেও বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেক শিক্ষকের (Teacher) দাবি, তাঁরা বদলির জন্য কোনও আবেদনও করেননি। তা সত্ত্বেও তাঁদের বদলি করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আদালতে প্রশ্ন ওঠে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীসের ভিত্তিতে ওই ৮৭ জনকে পাড়ার সমাধান প্রকল্পে বদলি করা হয়েছে। আদালতে শিক্ষা দফতরের সেই পুরনো নির্দেশিকাও পেশ করা হয়। বিচারপতি বসু বলেন, শিক্ষক বদলি নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়মকানুন আছে। সেসব বাদ দিয়ে ২০২০ সালে শিক্ষা দফতর কেন ওই নির্দেশিকা দিল, কার নির্দেশে তা জারি করা হয়েছে, তা জানতে হবে। আদালতের নির্দেশ বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা দফতরকে আদালতে জানাতে হবে। ক্ষুব্ধ বিচারপতির প্রশ্ন, এই পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে কারা থাকেন? এভাবে কি পারিবারিক সমস্যারও সমাধান করা যায়? বিচারপতি বলেন, যদি এভাবেই সব সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে আর আইন আদালতের কী দরকার? আদালতের একের পর এক প্রশ্নে বিব্রত বোধ করেন সরকারি আইনজীবীরা।
আরও পড়ুন:সাতসকালে গুলিবিদ্ধ যুবক
শিক্ষা দফতরের অন্দরের খবর, পাড়ায় পাড়ায় ছোটখাটো সমস্যা সমাধান করার জন্যই এ ধরনের বদলি করা হয়েছে। এইখানেই প্রশ্ন তুলেছে আদালত। শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, মিউচুয়াল বদলি বা সাধারণ বদলি, যেটাই হোক, তাতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা আবেদন না করলে এভাবে বদলি করা যায় না। কোনও কোনও শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, পাড়ায় পাড়ায় সমাধানের নামে যেসব স্কুল থেকে শিক্ষক অন্য স্কুলে বদলি করা হয়েছে, হয়তো ওইসব স্কুলে শিক্ষকের অভাব রয়ে গিয়েছে। বিচারপতি বসু এর আগে বদলি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় সরকারকে তীব্র ভাষায় ভর্তসনা করেন। এমনকী তিনি বদলির আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও ছেড়ে কোথা বলেননি। বহু শিক্ষক গ্রাম থেকে কলকাতায় বদলির আবেদন করায় গ্রামের স্কুলগুলি কার্যত শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে। এর জন্য বিচারপতি বসু নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।