বাজারে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের (Android OS) একচ্ছত্র আধিপত্য, আর সেই আধিপত্যের অপব্যবহারের অভিযোগ গুগলের বিরুদ্ধে। তার জেরে গুগল (Google)-কে ১৩৩৭.৭৬ কোটি টাকা জরিমানা করেছে কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (Competition Commission of India)। সেইসঙ্গে সিসিআই (CCI) আধিপত্যের অপব্যবহার বন্ধ করারও আদেশ দিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সফটওয়্যার (Software) টেক জায়ান্ট (Tech Giant) গুগলকে করতে হবে সংশোধনও। ইচ্ছাকৃতভাবে গুগলের তৈরি ওয়েব ব্রাউজার (Wb Browser) ব্যবহার, প্রি-লোডেড অ্যাপ (Pre-loaded App), প্রি-লোডেড অ্যাপ আনইনস্টল করার অপশন না রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল গুগলের বিরুদ্ধে।
স্মার্টফোনের (Smartphone) অপারেটিং সিস্টেমের কথা বললে সারা বিশ্বের বাজারে দু’টি সংস্থা রাজত্ব করে। একটি হল অ্যাপল (Apple), আরেকটি গুগল। এর মধ্যে অ্যাপল ইকোসিস্টেমের আইওস (iOS) সম্পূর্ণভাবে তাদের তৈরি স্মার্ট মোবাইল ডিভাইস আইফোনে (iPhone) ব্যবহার হয়। অন্য কোনও সংস্থাকে তা বিক্রি করা হয় না। কিন্তু গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম পুরোপুরি আলাদা। গুগল তার পিক্সল (Google Pixel) সিরিজের স্মার্টফোনের জন্য ব্যবহার করলেও, তার অনেক আগে থেকেই অন্যান্য মোবাইল নির্মাতা সংস্থাগুলিকে তাদের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের লাইসেন্স বিক্রি করে আসছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশের মোবাইল নির্মাণকারী সংস্থাকে অরিজিনাল ইক্যুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (Original equipment manufacturer) বা OEM বলা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মোবাইল সংস্থাগুলি তাদের তৈরি যতগুলি সেট বিক্রি করে থাকে সংশ্লিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম সহ, সেই অনুযায়ী গুগল বিভিন্ন OEM-এর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিয়ে থাকে চুক্তি অনুযায়ী।
আরও পড়ুন: Shaktimaan Film – মিলল ‘শক্তিমান’-এর পরিচালক
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জনপ্রিয়তার কারণ হল তুলনায় দামে সস্তা এবং ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছে মতো কাস্টোমাইজ (Customize) করে নিতে পারেন। কিন্তু গুগল এখানে নিজের জনপ্রিয়তা এবং আধিপত্যকে সুকৌশলে অপব্যবহার করে আসছে। সিসিআই’য়ের নির্দেশ, কোনও OEM-কে গুগল বাধ্য করতে পারবে না যে তাদের তৈরি স্মার্ট ডিভাইসে গুগলের নির্দিষ্ট করে দেওয়া অ্যাপগুলি প্রি-ইনস্টল থাকতে হবে। দরকার পড়লে ইউজার নিজেই ইনস্টল এবং আনইনস্টল করবেন। CCI-এর কঠোর নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড ইউজার তাঁর স্মার্ট ডিভাইসে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন (Default Search Engine) হিসেবে গুগল ব্যবহার করবেন, নাকি অন্য কিছু, সেটা ইউজারের ব্যক্তিগত পছন্দ। আর সেই পছন্দ যাতে খুব সহজেই সেট করতে পারেন ইউজার (User), তারও বন্দোবস্ত থাকতে হবে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে। এমনকি টেক জায়ান্ট গুগলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যান্য অ্যাপস্টোরের (App Store) ডেভেলপারদেরকে গুগল প্লেস্টোরের (Google Playstore) মাধ্যমে তাদের অ্যাপস উপলব্ধ করার সুবিধা দিতে হবে। অন্যথায় ফের বড় রকমের জরিমানার কবলে পড়তে হবে তাদের।
যে কোনও স্মার্টফোন ব্যবহার করতে গেলে অপারেটিং সিস্টেম লাগে। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এক্ষেত্রে সেই কাজটি করে থাকে। ২০০৫ সালে অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের মালিকানা গুগল পুরোপুরি কিনে নেয়। অন্যান্য নন-অপারেটিং সিস্টেম ওয়েব ব্রাউজার কিংবা সার্চ ইঞ্জিন যাতে জনপ্রিয় না হতে পারে, কৌশলে গুগল নিজেদের প্রোডাক্টকেই জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাদের স্বপক্ষে গুগলের যুক্তি ছিল, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপল একই কাজ করে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রেও গুগলের যুক্তি ধোপে টেকেনি। কারণ, অ্যাপল অন্য কাউকে তাদের অপারেটিং সিস্টেম বিক্রি করে না। ফলে নিজেদের তৈরি ডিভাইসে তারা নিজেদের ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করাতেই পারে। অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবসায়িক নীতি পুরোপুরি আলাদা। অর্থের বিনিময়ে নিজের প্রোডাক্ট বাজারজাত করার পর কৌশলে নিজেদের প্রোডাক্টকেই জনপ্রিয় করে তুলছে বিকল্প বেছে নেওয়ার প্রায় কোনও রকম ফাঁক-ফোকড় না রেখেই। আর এই কারণেই গুগলকে জরিমানার কবলে পড়তে হল।