ক্রংকিটের শহরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যায় বিকেলের গঙ্গার ঘাটে (Ferry Ghats)। গোধূলি বেলায় আকাশের রঙের ছটা ফেলে, অস্ত যায় সূর্য (Sun)। আর ঠিক সেই সময় ব্যস্ততা বাড়ে ফেরিঘাটে। ভেসেলের আয়োজন জোরাল হয়। এভাবেই বিকেলগুলোয় গঙ্গার পাড়ে জমে ওঠে আড্ডা। তাই এই বিষয়কে মাথায় রেখে নয়া উদ্যোগ। এবার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসেই গঙ্গার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চুমুক দিতে পারবেন কফির (Coffee) কাপে।
গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গার ঘাটগুলোতে তৈরি হবে ক্যা ফেটেরিয়া-রুফটপ রেস্তরাঁ। ১৪০টি ঘাটে বসবে ট্রান্সটাইল গেটও। হবে যাত্রী বিশ্রামাগার, টয়লেটও। তাছাড়া যেখানে গঙ্গার ঘাট বরাবর রেললাইন আছে, সেখানে হবে ফুটওভার ব্রিজ। সিঁড়ির বদলে থাকবে এসকালেটর।
আরও পড়ুন: Anushka Sharma in Cannes | কান টানলো বলিপাড়াকে
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সেজে উঠছে গঙ্গাপাড়ের গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটগুলো। ঘাট সংলগ্ন ৫০০ মিটার এলাকায় হবে সবুজায়ন। হবে ফুটপাথ, সেই সঙ্গে যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্যের যাবতীয় ব্যলবস্থা সেখানে করা হচ্ছে। ঘাট সংলগ্ন এলাকায় করা হবে অটোস্ট্যা্ন্ড, বাইক-সাইকেল গ্যাারেজ।
রুফটপের একতলায় থাকবে টিকিট কাউন্টার, যাত্রীদের ভেসেলে ওঠা-নামার ব্যবস্থা। আর দোতলায় তৈরি হবে ক্যাফেটেরিয়া। মিলেনিয়াম পার্ক, ফেয়ারলি, রামকৃষ্ণপুর ঘাট, চাঁদপাল, দক্ষিণেশ্বর, বেলুড়, চন্দননগরের মতো ঘাটগুলো সেজে উঠতে চলেছে এই নতুন রূপে। তবে, দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড়ে ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থা থাকবে না। কেএমডিএ এলাকার মধ্যে থাকা এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গাঘাটগুলো আরবান অগমেন্টেশন প্রোজক্টের আওতায় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
ট্রোর ধাঁচে ফেরিঘাটগুলোতে বসবে এই ট্রান্সটাইল গেট। ১৪০টি ঘাটের মধ্যে ২২টি ফেরিঘাটে ইতিমধ্যেই এই গেট বসে গিয়েছে। আগামী দিনে স্মার্ট কার্ডের পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যান করেই যাতায়াত করা যাবে। ইতিমধ্যেই হাওড়া, ব্যারাকপুর, খরদহের মতো কলকাতা ও শহরতলির মোট ২৪টি জেটির আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে থাকবে সম্পূর্ণ লোহার তৈরি জৈটি , পল্টন জেটি এবং আলোর ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে গঙ্গায় চলবে অত্যাধুনিক দূষণহীন ই-ভেসেল। সব কিছু নিয়ে জলপথ পরিবহণকে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে রাজ্যজুড়ে।