নয়াদিল্লি: দেশব্যাপী আপত্তি ও নিন্দার ঝড়ে শেষমেশ গবাদি ও অন্যান্য পশু রফতানির খসড়া বিল প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার। সকলের মতামত চেয়ে খসড়া বিলটি প্রকাশ করা হয়েছিল গত সপ্তাহে। তারপর থেকেই সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে, পশু সুরক্ষা অধিকার, পশুপ্রেমী সংগঠন এবং জৈন ধর্মের পক্ষে প্রবল আপত্তি ওঠে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে খসড়া লাইভস্টক অ্যান্ড লাইভস্টক প্রডাক্ট (ইমপোর্টেশন অ্যান্ড এক্সপোর্টেশন) বিল ২০২৩ বুধবার প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। যদি এই বিল সংসদে পাশ হয়ে যেত, তাহলে বিদেশের বাজারে প্রাণিসম্পদ ও প্রাণিজ মাংস রফতানি বহুলাংশে বেড়ে যেত। বিশেষত খসড়া এই বিলে প্রাণিজ সম্পদের তালিকায় কুকুর ও বিড়ালকে যুক্ত করায় সমালোচনার উত্তাপ চরমে ওঠে।
খসড়া বিল প্রত্যাহারের নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রাণিজ সম্পদ রফতানি আইন ১৮৯৮ সালের একটি আইন। তখন সংবিধান প্রণীত হয়নি, স্বাধীনতাও আসেনি। ফলে বস্তাপচা সেই আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বর্তমান সময় ও চলতি প্রয়োজন অনুসারে সেই পরিবর্তনের জন্য খসড়া বিল আনা হয়েছিল। কিন্তু, আলোচনাকালে দেখা যাচ্ছে প্রস্তাবিত খসড়া বিল নিয়ে ভাবনাচিন্তার আরও সময় লাগবে। সকলের মতামত মাথায় রেখে প্রস্তাবিত খসড়া বিল আপাতত প্রত্যাহার করে নেওয়া হল, নির্দেশে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অনুমোদিত ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ জানিয়েছে, এই বিল পথপশুদের পক্ষে ভয়ানক বিপদ ডেকে আনবে। ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং পরম্পরাগত বিশ্বাসে আঘাত করা মেনে নেবে না সংগঠন। অপরপক্ষে পশু অধিকার সংগঠনগুলি বলেছে, এতে প্রাণিজ সম্পদের রফতানি ব্যবসা আইনি সিলমোহর পাবে। উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ সালে ভারত ৫.১১ মিলিয়ন ডলারের প্রাণিজ সম্পদ রফতানি করেছে। যার মধ্যে অধিকাংশই হল ভেড়া এবং ছাগলের মাংস।
সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মাংস বেশি বিক্রি হয় পশ্চিম এশীয় দেশগুলিতে এবং কোনও উৎসবের সময় অতিরিক্ত রফতানি হয়। পশুপ্রেমী সংগঠনের তরফে একজন আন্দোলনকারী বলেন, এই আইনের ফলে পশু নির্যাতন বেড়ে যাবে। বিশেষ করে বিলে কুকুর, বিড়াল এবং পাখিকেও প্রাণিজ সম্পদ বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মতো দেশও পণ্য হিসেবে প্রাণিজ সম্পদ রফতানির মতো নিষ্ঠুর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।